জামায়াতকে নিয়ে সালাহ উদ্দিনের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য:

এটিভি অনলাইন ডেক্স:
রাজনীতির মাঠে বিতর্কিত ভূমিকার ইঙ্গিত দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “যারা এক সময় হাতপাখা নিয়ে আওয়ামী লীগকে বাতাস দিয়েছে, তারাও এখন নির্বাচন নিয়ে নানা যুক্তি দিচ্ছে। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একটি বিভ্রান্তিকর রাজনীতি করা দল, যারা একসময় স্বাধীনতা, একসময় জনগণ এবং পরে মানুষের অনুভূতির বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছিল।”
১৮ জুলাই রাজধানীর পল্লবীর এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে আয়োজিত মৌন মিছিলের আগে অনুষ্ঠিত হয় এ সংক্ষিপ্ত সমাবেশ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালাহ উদ্দিন আরও বলেন, “সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতি দেশের মানুষ চায় না, বুঝেও না। কেউ কেউ এই পদ্ধতির কথা বলে আসলে নির্বাচন বিলম্বিত করতে এবং পরিস্থিতি ঘোলাটে করে ফায়দা লুটতে চায়। আমি কারও নাম বলছি না, আপনারাই বুঝে নিন।”
তিনি আরও বলেন, “রাজনীতিতে যারা এখন নতুন বাক্য বিশারদ হয়েছেন, তারা যদি নির্বাচন না করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ধরে রাখতে চান কিংবা কোনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকেন, তাহলে বুঝতে হবে – ফ্যাসিবাদের দোসরদের আবার পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকেও কড়া সমালোচনা করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে পাশের রাষ্ট্রের করদ রাজ্যে পরিণত করতে শেখ হাসিনা সবরকম চেষ্টা চালিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তার রাজনৈতিক আশ্রয়ও সেখানে গিয়েছে। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু বাংলাদেশে হলেও, দাফন হয়েছে দিল্লিতে।”
সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে সালাহ উদ্দিন বলেন, “এই পদ্ধতিতে মিরপুরে ভোট দিলে সন্দ্বীপে এমপি হয়—এটা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে দূরে। যারা জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন চায়, তারা মূলত নির্বাচন বিলম্ব করতে চায়। তাদের উদ্দেশ্য ভালো নয়।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানি, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসিরসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
