তাড়াইলে সার সংকটের অভিযোগ কৃষকের, কৃষি বিভাগ বলছে মজুত পর্যাপ্ত

আল-মামুন খান, স্টাফ রিপোর্টারঃ

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় আমন মৌসুম শুরু হলেও প্রয়োজনীয় সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন কৃষকেরা। আমন আবাদ শুরুর গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিভিন্ন এলাকায় সার সংকট দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা।

তবে উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, উপজেলায় পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে এবং সারের কোনো সংকট নেই।কৃষকদের অভিযোগ, প্রয়োজনের সময় স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত সার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক কৃষককে একাধিক দোকানে ঘুরতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগও করেছেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তাড়াইল উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের জন্য ইউরিয়া সারের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৪৩০ মেট্রিক টন, টিএসপি ৯০১ মেট্রিক টন, ডিএপি ১ হাজার ৮৬৮ মেট্রিক টন এবং এমওপি ১ হাজার ২৯৪ মেট্রিক টন।

পর্যাপ্ত সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন কৃষক ছিদ্দিকুর রহমান ভূঁইয়া, আইনুল ইসলাম, রুকন মিয়া, শামীম মিয়া, ফজলুর রহমান, দেলোয়ার হোসেনসহ আরও অনেকে।তাদের দাবি, কৃষি বিভাগ যদি উপজেলায় পর্যাপ্ত সার মজুত থাকার কথা বলে থাকে, তাহলে মাঠপর্যায়ের বিক্রেতাদের কাছে কেন প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না—তা খতিয়ে দেখা দরকার। একই সঙ্গে বরাদ্দ অনুযায়ী সার যথাযথভাবে কৃষকের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, সেটিও তদারকির দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাড়াইল-সাচাইল ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার মেসার্স শাহাব উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, “তাড়াইলে সারের সংকট ছিল। পরে কৃষি বিভাগের সমন্বয়ে জেলা সদর ইউনিয়ন থেকে কিছু সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে সংকট একেবারে নেই—এমনটা বলা যাবে না।

”সোমবার (৩১ আগস্ট) মাঠপর্যায়ে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে সারের পরিস্থিতি একরকম নয়। কোনো কোনো এলাকায় কৃষকেরা প্রয়োজনের সময় সার না পাওয়ার অভিযোগ করছেন। আবার কোথাও সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির তথ্যও পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে—উপজেলায় যদি পর্যাপ্ত সার মজুত থাকে, তাহলে কৃষকেরা প্রয়োজনের সময়ে সার পাচ্ছেন না কেন? সরবরাহ ব্যবস্থার কোথাও ঘাটতি তৈরি হচ্ছে কি না, বরাদ্দের সঙ্গে স্থানীয় চাহিদার সামঞ্জস্য রয়েছে কি না এবং সরকারি মূল্যে সার কৃষকের হাতে পৌঁছাচ্ছে কি না—এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।কৃষকদের আশঙ্কা, আমন মৌসুমে সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ করতে না পারলে একদিকে উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে, অন্যদিকে ফসলের ফলনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এ বিষয়ে তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিকাশ রায় বলেন, “তাড়াইল উপজেলায় পর্যাপ্ত সার রয়েছে। সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ সঠিক নয়। তারপরও কৃষকেরা কেন সার পাচ্ছেন না, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *