এস, এম, নাদিরুজ্জামান

চীনা ওই যুবকের নাম লি ওয়েই (৪১) তার বাবার নাম লি ইন্কে। তিনি চীনের গানসু প্রদেশ এর পিংলিয়াং সিটির লিংতাই কাউন্টির বাসিন্দা। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়।
তিনি জানান, আগে একটি লজিস্টিকস কোম্পানিতে চাকরি করতেন, বর্তমানে ভ্রমণ করছেন। লি ওয়েই বলেন, “ওয়ার্ল্ড টক নামের একটি অ্যাপের মাধ্যমে অনিকার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। পরে আমাদের নিয়মিত কথা বলতে বলতে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অনিকা আমাকে তার বাড়িতে বেড়াতে আমন্ত্রণ জানায়, তাই আমি বাংলাদেশে এসেছি।
”তিনি আরও জানান, অন-অ্যারাইভাল ভিসা পেতে তার প্রায় এক মাস সময় লেগেছে। গত ২৬ মে তিনি ঢাকায় পৌঁছান। এরপর রাজধানীর উত্তরা এলাকায় কয়েকদিন অবস্থান করে অষ্টগ্রামে আসেন। তার ভিসার মেয়াদ এক মাস। প্রয়োজন হলে তিনি তা নবায়নের চেষ্টা করবেন।
লি ওয়েই বলেন, আমার আগে একটি স্বল্পস্থায়ী বিয়ে হয়েছিল, যা টেকেনি। বর্তমানে আমি অবিবাহিত। অনিকার সঙ্গে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে পরিচয় হয়। যদি আমাদের বিয়ে হয়, তাহলে আইনগত সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই হবে। আমি অনিকা ও তার পরিবারের সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। তারা রাজি না হলে আমি চীনে ফিরে যাব।
যার টানে চীনা যুবকের বাংলাদেশে আগমন, সেই মোছাঃ অনিকা আক্তার (১৪) বর্তমানে উপজেলার দেওঘর ইউনিয়নের হক সাহেব উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা হলেও তিনি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের দেওঘর ইউনিয়নে নানাবাড়িতে বড় হয়েছেন।অনিকা আক্তার জানান, “ওয়ার্ল্ড টকের মাধ্যমে আমাদের পরিচয়। আমি তাকে বাংলাদেশে বেড়াতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। সে এখন আমাদের বাড়িতে আছে। তাকে দেখে-শুনে, বুঝে ভালো মনে হলে ভবিষ্যতে বিয়ের বিষয়ে চিন্তা করা হবে।
এদিকে অনিকার নানা ও পরিবারের সদস্যরা জানান, চীনা যুবককে তারা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। সবকিছু ভালো মনে হলে ভবিষ্যতে বিয়ের বিষয়টি বিবেচনা করবেন। তবে বিয়ের পরপরই মেয়েকে চীনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত তারা নেবেন না।পরিবারের সদস্যরা বলেন, ছেলেটি ভালো হলে বিয়ের ব্যাপারে ভাবা যেতে পারে। তবে শুরুতেই মেয়েকে চীনে পাঠানো হবে না। আগে সে চীন থেকে যাতায়াত করবে, আমাদের পরিবারের সদস্যদেরও সেখানে নিয়ে তার বাড়িঘর ও পরিবেশ দেখাবে। সবকিছু সন্তোষজনক মনে হলে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
চীনের এক নাগরিকের প্রেমের টানে হাওরাঞ্চল অষ্টগ্রামে আগমন ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। প্রতিদিনই তাকে এক নজর দেখতে বাড়ির আশপাশে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষজন।এবিষয়ে অষ্টগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ রুকনুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মোছাঃ সিলভিয়া স্নিগ্ধা-র কাছে জানতে সরকারি মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বাংলাদেশের মেয়ে বলে কথা ভইজান