মোঃ নাদিরুজ্জামান আজমল

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় একটি বাড়িকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। এক পক্ষ অভিযোগ করছে, বৈধভাবে ক্রয় করা বাড়িতে বসবাস করতে না পেরে তারা মালামাল নিয়ে কয়েকদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
অপরদিকে অন্য পক্ষ সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিল করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, তারা দীর্ঘদিন আগে বাড়িটি ক্রয় করে দখল বুঝে পেলেও সম্প্রতি বিভিন্ন জটিলতার কারণে বাড়িতে প্রবেশ ও বসবাসে বাধার মুখে পড়েছেন। তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষে জনি মিয়া গত ১ জুন অষ্টগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ৩ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছেও পৃথক অভিযোগ জমা দেন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। অভিযোগের পর বুধবার দুপুরে অষ্টগ্রাম বড় বাজার এর জামতলী এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন অভিযুক্ত সজু মিয়া। পরে ঐদিন বিকেলে সজু মিয়ার পক্ষে একটি বিক্ষোভ মিছিল করে তার পক্ষের স্থানীয় বাসিন্দারা। বিক্ষোভ মিছিলটি জামতলী থেকে শুরু করে কাচারি ব্রিজ হয়ে পুনরায় জামতলী মোড়ে এসে শেষ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি (সজু মিয়া) বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি কাউকে কোনো ধরনের বাধা, হুমকি দেয়নি। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়ি ছেড়ে বাইরে অবস্থান করছে। রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য একটি নাটক সাজানো হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার করার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিলভিয়া স্নিগ্ধার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রুকনুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে থানার এক কর্মকর্তা জানান, তিনি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন।থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই রিপন পাল বলেন, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওসি স্যার কর্মস্থলে ফিরলে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে প্রাথমিক তদন্তে সজু মিয়ার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
অপরদিকে সজু মিয়ার পক্ষে স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল শেষে দাবি করেন, বাড়ি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রকৃত তথ্য আড়াল করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারা প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে অপারগ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া সম্ভব নয় বলেও তারা জানিয়েছেন।
তবে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ও প্রশাসনিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে এবং বিরোধ নিষ্পত্তির কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।
