বিশেষ প্রতিনিধি

মানবিকতা, সহমর্মিতা ও উৎসবের আমেজে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে উদ্যাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। বন্দিদের আনন্দময় ঈদ উপহার দিতে কারা প্রশাসনের উদ্যোগে নেওয়া হয় নানা ব্যতিক্রমী আয়োজন, যা বন্দি ও তাদের স্বজনদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
‘রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কারা অধিদপ্তরের আইজি প্রিজন্স ও ডিআইজি (প্রিজন্স)-এর নির্দেশনায় কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. দিদারুল আলম ও জেলার ফারজানা আক্তারের তত্ত্বাবধানে আয়োজন করা হয় বিশেষ কর্মসূচি।
ঈদের সকালে বন্দিদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নেয় কারা প্রশাসন। পরে তাদের জন্য পরিবেশন করা হয় পায়েস, নুডুলস, গরুর মাংসসহ বিশেষ খাবার। এতে বন্দিদের মাঝে ঈদের আনন্দ আরও বেড়ে যায় এবং কারাগারের অভ্যন্তরে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। ঈদ উপলক্ষে সাক্ষাৎ করতে আসা বন্দিদের স্বজনদের প্রতিও দেখানো হয় বিশেষ আন্তরিকতা ও সম্মান। বন্দিদের জন্য স্বজনদের আনা খাবার যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়। পাশাপাশি কারা চত্বরে আগত স্বজনদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর উদ্যোগও সবার নজর কাড়ে।
বন্দিদের কয়েকজন স্বজন জানান, বর্তমান কারা প্রশাসনের দায়িত্বশীলতা, শৃঙ্খলা, খাবারের মান এবং মানবিক আচরণে তারা মুগ্ধ। তারা বলেন, এমন আন্তরিক ও সম্মানজনক পরিবেশ অতীতে খুব কমই দেখা গেছে।কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার ফারজানা আক্তার বলেন, “কারাগার শুধু শাস্তির স্থান নয়, এটি আত্মশুদ্ধি ও সংশোধনের জায়গা। বন্দিদের প্রতি মানবিক আচরণের মাধ্যমে তাদের নতুন জীবনের পথে এগিয়ে নিতে আমরা কাজ করছি।”জেল সুপার মো. দিদারুল আলম বলেন, “ঈদের দিনে আমরা বন্দিদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছি তারা একা নয়। ভালোবাসা, সম্মান ও মানবিক আচরণ একজন মানুষকে বদলে দিতে পারে। কারাগারকে মানবিক ও আধুনিক সংশোধনাগারে রূপ দিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”কারা প্রশাসনের এ ব্যতিক্রমী আয়োজন বন্দিদের মনে স্বস্তি, আশাবাদ ও নতুন জীবনের স্বপ্ন জাগিয়েছে বলে জানা গেছে। কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের এই উদ্যোগ মানবিক কারা ব্যবস্থাপনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে।
