মোঃ নাদিরুজ্জামান আজমল

ইতালির ভেনিস সিটি করপোরেশন নির্বাচনে টানা দ্বিতীয়বার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার সন্তান আফাই আলী।
তার এ বিজয়ে ইতালিপ্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি নিজ জন্মভূমি অষ্টগ্রামেও আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে।
গত ২৫ ও ২৬ মে ইতালির ভেনিসে অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে ইতালির মূলধারার রাজনৈতিক দল ‘পার্তিতো ডেমোক্রেটিকো (পিডি)’ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন আফাই আলী। নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মতিউর রহমানকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে বিজয়ী হন।
আফাই আলীর বাড়ি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার খয়েরপুর-আব্দুল্লাপুর ইউনিয়নে। তিনি ইতালিপ্রবাসী আব্বাস আলীর ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮ সালে উন্নত জীবনের আশায় ইতালিতে পাড়ি জমান তার বাবা আব্বাস আলী। পরবর্তীতে ইতালির নাগরিকত্ব লাভের পর ২০০২ সালে পরিবারকে ইতালিতে নিয়ে যান। সে সময় আফাই আলী অষ্টগ্রামের আব্দুল্লাপুর গ্রামের ইদ্রিস আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।ইতালিতে গিয়ে তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ২০১৭ সালে তিনি ইতালির মূলধারার রাজনৈতিক দল ‘পার্তিতো ডেমোক্রেটিকো (পিডি)’তে যোগ দেন।
তার সামাজিক কাজ, নেতৃত্বগুণ ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার স্বীকৃতি হিসেবে দলটি ২০২০ সালে ভেনিসের মেস্ত্রে-কার্পেনেদো এলাকার কাউন্সিলর পদে তাকে মনোনয়ন দেয়। ওই নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতালির স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়েন আফাই আলী। এবারও একই এলাকায় বিভিন্ন দলের মোট ১৭ জন প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পুনরায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচনে বিজয়ের পর আফাই আলী ভেনিসের ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো এখন আরও সরাসরি মেয়রের কাছে তুলে ধরতে এবং বাস্তবায়নে কাজ করতে পারব। এতে আমাদের কমিউনিটি উপকৃত হবে, ইনশাআল্লাহ।
”তিনি আরও বলেন, উন্নত জীবনের আশায় যারা ইতালিতে আসেন, তাদের প্রতি আমার আহ্বান ধৈর্য ধরে ইতালির আইন-কানুন মেনে চললে নিরাপদ ও সুন্দরভাবে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। আমরা যদি ইতালির সংস্কৃতি ও মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হই, তাহলে আমাদেরই উপকার হবে।তার এই বিজয়ে ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে অষ্টগ্রামের আব্দুল্লাপুর গ্রামেও বইছে আনন্দের বন্যা।
