নিজস্ব প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পূর্ব শত্রুতার জেরে এক যুবককে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।সোমবার (৩০ মার্চ) কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার লুন্দিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম ইমাম হোসেন (২০)। তিনি পাগলহাটি গ্রামের ইসাক মিয়ার ছেলে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লুন্দিয়া গ্রামের শেখবাড়ি ও পাগলহাটি গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ২৩ মার্চ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ইমাম হোসেন দোকান থেকে মোবাইল রিচার্জ কার্ড কিনে ফেরার পথে পূর্বপরিকল্পিত হামলার শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, শেখবাড়ির ১০-১৫ জন যুবক তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।এ ঘটনায় নিহতের বাবা ইসাক মিয়া বাদী হয়ে ভৈরব থানায় ৭৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।হত্যাকাণ্ডের পরপরই প্রতিপক্ষের লোকজন শেখ বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে শতাধিক পাকা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং ঘর থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র লুট করে নেওয়া হয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় কোটি টাকা বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের।এছাড়া শেখবাড়ির পুরুষ সদস্যরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় রাতে বাড়িতে ঢুকে নারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রশিদ এবং ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতাউর রহমান আকন্দ।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, হত্যাকাণ্ডের পর পাল্টাপাল্টি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের সহযোগিতা পেলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।অন্যদিকে, ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, “ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ইমাম হোসেনের বাবা ৭৯ জনের নাম উল্লেখসহ থানায় হত্যামামলা করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছি, যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন। ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তৃতীয় পক্ষও জড়িত থাকতে পারে।”বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।
