বিশেষ প্রতিনিধি।

বাজিতপুরকে জেলা ঘোষণার দাবিতে ‘বাজিতপুর অনলাইন একটিভিস্ট ফোরাম’ আয়োজিত মোটর সাইকেল র্যালি ও পথসভা হয়। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে বাজিতপুরের ঐতিহাসিক ডাকবাংলো মাঠ থেকে শুরু করে র্যালিটি বাজিতপুরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বাজিতপুর বাজারের আলোছায়া সিনেমা হল মোড়ে এসে পথসভায় মিলিত হয়। এ আয়োজনে নেতৃত্ব দেন বাজিতপুর অনলাইন একটিভিস্ট ফোরামের আহ্বায়ক বদরুল রহমান ও সদস্য সচিব নূর মোহাম্মদ বাচ্চু। এদিন বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া মোটর সাইকেল র্যালিতে শতাধিক মোটর সাইকেলে ফোরামের সদস্য ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণীর পেশার মানুষ ও সাংবাদিকরা অংশ নেন। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের শ্লোগান ছিল ‘জেলা জেলা জেলা চাই, বাজিতপুরকে জেলা চাই’, ‘বাজিতপুর জেলা আমাদের প্রাণের দাবি’, ‘বাজিতপুর জেলা আমাদের ন্যায্য দাবি’, ‘বাজিতপুর জেলা আমাদের অধিকার’ ইত্যাদি। পথসভায় বক্তারা বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, ঐতিহ্যবাহী বাজিতপুর উপজেলাকে জেলা হিসেবে বাস্তবায়নের দাবি দীর্ঘদিনের। যুক্তিসঙ্গত এই দাবি বাস্তবায়নেও আমরা বদ্ধ পরিকর। কেননা জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে যেসব অবকাঠামগত সুবিধাদি ও আনুসাঙ্গিক বিষয়াদি রয়েছে, তার প্রায় সবটুকুই দৃশ্যমান আছে এই বাজিতপুরে। এছাড়া দীর্ঘকাল ধরে এই দাবির পক্ষে উঠান বৈঠক, মতবিনিময় সভা সেমিনারসহ সব ধরনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।উল্লেখ্য, ১৮৩৪ সালে, অর্থাৎ এখন থেকে ১৯১ বছর আগেই তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার বাজিতপুরে সাতটি প্রশাসনিক এলাকার দেওয়ানী (চৌকি) আদালত প্রতিষ্ঠা করে, এর মধ্যে ভৈরব, কুলিয়ারচর, নিকলী, অষ্টগ্রাম ও বাজিতপুর-এ পাঁচ থানার চৌকি আদালতের কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে; ১৮৩৫ সালে, অর্থাৎ ১৯০ বছর আগেই বাজিতপুরকে থানায় উন্নীত করা হয়; ১৮৬৯ সালে, অর্থাৎ ১৫৬ বছর আগেই বাজিতপুরকে পৌরসভা ঘোষণা করা হয়; ১৯১২ সালে, অর্থাৎ ১১৩ বছর আগেই মহকুমা করার লক্ষ্যে বাজিতপুরে প্রায় ২০০ একর ভ‚মি অধিগ্রহণ করা হয়; দেশের খ্যাতনামা জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং জহুরুল ইসলাম নার্সিং ইনস্টিটিউট অবস্থিত এ বাজিতপুরেই; ভৌগলিক দিক দিয়ে সবচেয়ে যোগ্য অবস্থানে রয়েছে বাজিতপুর উপজেলা, এ উপজেলার চারদিকে রয়েছে অষ্টগ্রাম, নিকলী, কটিয়াদী, কুলিয়ারচর ও ভৈরব।
