গঙ্গাচড়ায় তিস্তাবেষ্টিত চরাঞ্চলে বন্যা, পানিবন্দি শতাধিক পরিবার

রবিন্দ্র সরকার রিপন
‎গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি:

ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও মঙ্গলবার রাতভর টানা বর্ষণে তিস্তার পানি আবারও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তাবেষ্টিত নিচু চরাঞ্চলের বহু এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার। তলিয়ে গেছে সদ্য রোপণ করা আমন ধানক্ষেত ও বিভিন্ন সবজির খেত।

‎উপজেলার কোলকোন্দ, লক্ষীটারী, গজঘণ্টা, মর্নেয়া ও নোহালী ইউনিয়নের কয়েকশ পরিবারের ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টায় উজানের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমা (৫২.১৫ সেমি) থেকে ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, যা সকাল ৬টায় ছিল বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে।

‎পশ্চিম ইচলীর কুমোবালা বলেন, “আজ সকালে থেকেই বাড়িতে পানি উঠেছে। এর আগে দুদিন পানি উঠে কষ্টে ছিলাম, তবুও কোনো সহায়তা পাইনি। সবাই শুধু ছবি তোলে আর কথা বলে চলে যায়।”

‎লক্ষীটারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী জানান, ইউনিয়নের পশ্চিম ইচলি, মধ্য ইচলি, পূর্ব ইচলি, জয়রাম ওঝা, শংকরদহ ও চল্লিশ সাল এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
‎গজঘণ্টা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান বকুল মিয়া বলেন, কালির চর, চর ছালাপাক ও চর রাজবল্লভ এলাকার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
‎কোলকোন্দ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম জানান, বিনবিনা, শখের বাজার, খলাইর চর, মটুকপুর, আবুলিয়া ও চিলাখাল এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে।
‎মর্নেয়া ইউনিয়নের ইউপি প্রশাসক মাহমুদুর রহমান জানান, চর মর্নেয়া, নরসিংহ, রামদেব, কামদেব ও নিলারপাড়া এলাকার প্রায় শতাধিক পরিবার পানিবন্দি।
‎নোহালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী জানান, চর নোহালী, চর বাগডহরা, চর বৈরাতি, মিনার বাজার, ব্রিফ বাজার ও আশ্রয়ন বাজার এলাকার নিম্নাঞ্চলের পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

‎উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, “সাম্প্রতিক বন্যায় তিস্তার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
‎পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, “তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সুইচ গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। তিস্তাতীরবর্তী মানুষকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *