এটিভি অনলাইন ডেক্স:

অষ্টগ্রামের ঐতিহাসিক কুতুব শাহী জামে মসজিদের দানবাক্স ভেঙে লক্ষাধিক টাকা চুরির ঘটনার পরপরই তৎপর হয় অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিলেও, দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে চারজন সন্দেহভাজনকে আটক করে অষ্টগ্রাম থানা পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে ফিরে এসেছে আস্থার আলো।
আটককৃতরা হলেন, ১। শাকিল (২৫) পিতা, পিতা মোঃ সানোয়ার সাং বাগের হাটি। ২। মোঃ শিপু মিয়া (৩৫) পিতা মৃত শফিউদ্দিন সাং হাবেলি পাড়া। ৩। মোঃ মানিক মিয়া (৩৫) পিতা মৃত আইয়ুব আলী সাং দেওয়ান দিঘির পাড়। ৪। মোঃ বিজয় মিয়া (২৮) পিতা মৃত আজগর আলী সাং দেওয়ান দিঘির পাড় অষ্টগ্রাম কিশোরগঞ্জ।
উল্লেখ্য, চুরির ঘটনার পর পরই অষ্টগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রুহুল আমিন প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে অভিযান শুরু করেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মসজিদ কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ একদিন পর রাতেই একাধিক স্থানে অভিযান চালায়। চারজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয় এবং তাদের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়।
ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান থাকলেও, অল্প সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি করায় অষ্টগ্রাম থানা পুলিশের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মসজিদ কমিটির সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় একজন মসজিদ মুসল্লি বলেন, “এই ধরনের ঘটনার পর সাধারণত বিচার পেতে অনেক সময় লাগে, কিন্তু এবার প্রশাসন ও পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপে আমরা আশ্বস্ত। এমন সাহসী ও দ্রুত ব্যবস্থার জন্য ধন্যবাদ জানাই।”
অন্যদিকে, অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দেন এবং বলেন, “অপরাধী যেই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব।”
অষ্টগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রুহুল আমিন জানায়, প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলেও, তদন্তের অগ্রগতি ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটনের প্রয়োজনে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে অষ্টগ্রাম থানার ওসি বলেন, “রিমান্ড মঞ্জুর হলে জিজ্ঞাসাবাদে অনেক তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বিচার ও চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারের পাশাপাশি অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন।
