এটিভি অনলাইন ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গে গরু জবাই ও গো-হত্যা বরদাশত করা হবে না বলে কড়া হুমকি দিয়েছেন হিন্দুত্ববাদী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘সীমান্তবর্তী এলাকায় বেআইনি মাদ্রাসা চলতে দেওয়া হবে না, যাতে সেখানে কোনো দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড গড়ে উঠতে না পারে।’
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র হিসেবে গণ্য হওয়া ‘গো-মাতা’র ওপর কোনো আঘাত বরদাশত করা হবে না বলে হুঙ্কার দেন মুসলিম-বিদ্বেষী শুভেন্দু। এর পাশাপাশি রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) অধীনে হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
“গো-মাতার গায়ে হাত দিলে ছাড় নয়”
জনসভায় নিজের বক্তব্যে গো-হত্যার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘গো-মাতার গায়ে কেউ হাত তুলবেন না। গো-মাতার কোনো ক্ষতি করা যাবে না। আমি এটা পরিষ্কার করে দিচ্ছি—যদি এমনটা ঘটে, তবে আমার চেয়ে খারাপ আর কেউ হবে না।’
সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে তিনি অবৈধ মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘সীমান্তবর্তী এলাকায় কোনো ধরনের বেআইনি মাদ্রাসা চলতে দেওয়া যাবে না, যাতে সেখান থেকে কোনো ধরনের দেশবিরোধী কার্যক্রম পরিচালিত হতে না পারে।’
অবৈধ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বিজেপি সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, যারা অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করেছে, তাদের চিহ্নিত করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাব। তাদের আগে হোল্ডিং স্টেশনে রাখা হবে এবং তারপর তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।’
একই সঙ্গে তথাকথিত বিচ্ছিন্নতাবাদী দলগুলোর কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যারা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’-র মতো দেশবিরোধী স্লোগান দেয়, তাদের সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় হতে দেওয়া যাবে না। ‘টুকড়ে-টুকড়ে গ্যাং’ কিংবা এই ধরনের অপশক্তিকে কোনোভাবেই জমিতে পা রাখার সুযোগ দেওয়া হবে না।’
হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্বের আবেদন করার আহ্বান
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) আওতায় হিন্দু শরণার্থীদের দ্রুত নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে শুভেন্দু বলেন, যারা এখনো আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেননি, তাদের অবিলম্বে আবেদন করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, “আমি নিশ্চিত করব যেন একজন হিন্দু শরণার্থীকেও জেলে যেতে না হয়। তাদের জেল থেকে মুক্ত করতে এবং আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব প্রদান করতে অবিলম্বে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।” বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী উত্তর দিনাজপুর থেকে সরকারের নিরাপত্তা নীতি, অনুপ্রবেশ রোধ এবং হিন্দু শরণার্থীদের অধিকার রক্ষার সামগ্রিক রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি।
