স্পোর্টস ডেস্ক

গাজার শিশুদের জন্য জরুরি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ১ লাখ পাউন্ডের বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছেন শেফিল্ড ইউনাইটেডে খেলা বাংলাদেশের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই তহবিল সংগ্রহের সাফল্যের কথা জানান বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই ফুটবলার। নুজুম স্পোর্টসের সহযোগিতায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। তহবিলের অর্থ যাবে চিলড্রেন নট নাম্বার্স নামের একটি সংস্থার কাছে, যারা সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের সহায়তায় কাজ করছে।
ইনস্টাগ্রামে হামজা লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমরা গাজার শিশুদের জন্য ১ লাখ পাউন্ডের বেশি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছি।” তিনি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী, অনুদানদাতা এবং এই উদ্যোগ সফল করতে সহায়তাকারী সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি নুজুম স্পোর্টসের প্রশংসা করে বলেন, এই তহবিল সংগ্রহের প্রচেষ্টা চলমান মানবিক সংকটের মুখে একটি ছোট অবদান মাত্র।

হামজা আরও বলেন, “সংগৃহীত সব অর্থ এমন শিশুদের চিকিৎসার জন্য নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে ব্যয় করা হবে, যাদের এর খুবই প্রয়োজন।” একই সঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর দুর্ভোগ কমাতে সবাইকে আরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
২৯ বছর বয়সী হামজা বর্তমানে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় স্তরের লিগ চ্যাম্পিয়নশিপে শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলছেন। এর আগে তিনি লেস্টার সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগে ১০০টিরও বেশি ম্যাচ খেলেছেন এবং ২০২১ সালে দলটির এফএ কাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
লেস্টার সিটির এফএ কাপ জয়ের পর সতীর্থ ওয়েসলি ফোফানার সঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনি পতাকা প্রদর্শন করেছিলেন।
ইংল্যান্ডের লাফবরোতে জন্ম নেওয়া হামজার মা বাংলাদেশি এবং বাবা গ্রেনাডিয়ান। ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-২১ দলে খেলার পর তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নেন। ফিফা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তার জাতীয়তা পরিবর্তনের আবেদন অনুমোদন করে।
বাংলাদেশের হয়ে খেলাটা দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল বলে জানিয়েছেন হামজা। দেশের সঙ্গে নিজের গভীর সম্পর্ক এবং সমর্থকদের প্রতি টানই তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে অনুপ্রাণিত করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের পরিচিতি আরও বাড়াতে চান তিনি।
মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও সক্রিয় হামজা চৌধুরী। গাজার শিশুদের জন্য এই তহবিল সংগ্রহ উদ্যোগ সেই প্রচেষ্টারই আরেকটি উদাহরণ, যার মাধ্যমে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন এমন শিশুদের সহায়তা করা হবে।
