এটিভি অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর ইউপি চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

মোঃ নাদিরুজ্জামান আজমল

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সীমানা প্রাচীরের ভেতর থেকে ছয়টি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে এটিভি অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মন্নাফকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার অষ্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল আহাদ এ নোটিশ দেন বলে জানা গেছে।এর আগে আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের জায়গা থেকে ছয়টি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান আব্দুল মন্নাফের বিরুদ্ধে। অভিযোগের বিষয়ে এটিভি অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে।

অষ্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত ইউএনও আব্দুল আহাদ জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদের জায়গা থেকে গাছ কাটার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কোনো ধরনের লিখিত অনুমতি নেওয়া হয়নি। এ কারণে চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, গত কয়েকদিনে ইউনিয়ন পরিষদের সীমানার ভেতর থেকে ছয়টি মূল্যবান গাছ কেটে করাতকলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, প্রতিটি গাছের মূল্য প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা হতে পারে।এ বিষয়ে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান পলাশ মিয়া বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

চেয়ারম্যানের সঙ্গে এ বিষয়ে তার কোনো কথাও হয়নি। অন্য সদস্যদের জিজ্ঞাসা করলেও তারাও গাছ কাটার বিষয়টি জানেন না বলে জানান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মন্নাফ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের তিনটি গাছ মরে গিয়ে পরিষদ ও স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিলিভিয়া স্নিগ্ধাকে জানালে তিনি গাছগুলো কেটে ফেলার জন্য মৌখিক অনুমতি দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

চেয়ারম্যান আব্দুল মন্নাফ আরও বলেন, ‘আমার ভুল হয়েছে, কেন লিখিত অনুমতি নিলাম না। গাছগুলো আমি বিক্রি করিনি, করাতকলে রেখে দিয়েছি। রাতের আঁধারে গাছ কাটার যে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটিও মিথ্যা।’এদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মন্নাফকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারি সম্পত্তির গাছ কাটার ক্ষেত্রে নিয়ম-কানুন মানা হয়েছে কি না এবং গাছগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *