আল-মামুন খান, স্টাফ রিপোর্টারঃ

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় বাড়িতে ঢুকে এক গর্ভবতী নারীর পেটে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে। এতে ওই নারীর পাঁচ মাসের গর্ভের সন্তান মারা গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাড়াইল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট দুপুর ২টার দিকে সেকান্দরনগর বাগপাড়া এলাকায় কবির মিয়া (২২) ও তার কয়েকজন সহযোগী জ্যোতি বেগমের বাবার বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে জ্যোতি বেগমের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে জ্যোতি বেগমের পেটে সজোরে লাথি মারেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী জ্যোতি বেগম (৩০) অভিযোগে জানান, তিনি তখন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পেটে আঘাত পাওয়ার পর তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসক তার গর্ভের সন্তানকে মৃত ঘোষণা করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় গত ২৪ আগস্ট জ্যোতি বেগম বাদী হয়ে তাড়াইল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে কবির মিয়া (২২), তার বাবা সারজুল মিয়া (৪৫), চুন্নু মিয়া, পায়েল (২০), আবু হানিফ (৩৪) ও মোছা. জৈয়তন আক্তারকে (৪০) অভিযুক্ত করা হয়েছে।তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
তাড়াইল থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম বলেন, “অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এদিকে ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
