জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত অষ্টগ্রাম, এবার তারেক রহমানের সফরের প্রত্যাশায় স্থানীয়রা

মোঃ নাদিরুজ্জামান আজমল

কিশোরগঞ্জের হাওরবেষ্টিত উপজেলা অষ্টগ্রাম শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যই নয়, স্থানীয়দের স্মৃতিতে সংরক্ষিত কিছু রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের কারণেও বিশেষভাবে আলোচিত।

স্থানীয় প্রবীণদের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, ১৯৮১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁর দেশব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অষ্টগ্রাম সফর করেছিলেন। চার দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই সফরের স্মৃতি এখনও অনেক মানুষের আলোচনায় ফিরে আসে।‎‎

সেই স্মৃতির ধারাবাহিকতায় অষ্টগ্রামের অনেক স্থানীয় বাসিন্দা আশা প্রকাশ করছেন যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও হাওরের এই জনপদ সফর করবেন।

তাদের মতে, এমন একটি সফর শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; বরং হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, উন্নয়ন-প্রয়োজন এবং সম্ভাবনা জাতীয় পর্যায়ে আরও দৃশ্যমান করতে সহায়ক হতে পারে।‎‎অষ্টগ্রাম বাংলাদেশের বৃহৎ হাওরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। বর্ষা মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায় এবং নৌযানই মানুষের প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে ওঠে। আবার শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে পুরো জনপদ। ধান, মাছ এবং হাওরকেন্দ্রিক অর্থনীতি এখানকার মানুষের জীবন-জীবিকার মূল ভিত্তি।‎‎স্থানীয়দের মতে, গত কয়েক দশকে যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা ও বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন হলেও এখনও স্বাস্থ্যসেবা, বিশেষায়িত চিকিৎসা, নিরাপদ নৌযোগাযোগ, বন্যা ব্যবস্থাপনা, কর্মসংস্থান এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার মতো বিষয়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

‎‎প্রবীণ বাসিন্দাদের অনেকে বলেন, তাঁদের শৈশব বা যৌবনের একটি স্মরণীয় ঘটনা ছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অষ্টগ্রাম সফর। যদিও সেই সফরের পূর্ণাঙ্গ সরকারি নথি বর্তমানে সহজলভ্য নয়, তবু স্থানীয়ভাবে এটি বহু বছর ধরে আলোচিত একটি স্মৃতি। তাঁদের বিশ্বাস, ইতিহাসের সেই স্মৃতি সংরক্ষণে গবেষণা ও দলিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।‎‎স্থানীয় শিক্ষক, ব্যবসায়ী, কৃষক এবং তরুণদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা চান গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাতীয় পর্যায়ের নেতারা সময় নিয়ে হাওরাঞ্চলের বাস্তব জীবন দেখুন। বর্ষাকালে বিচ্ছিন্ন জীবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সমস্যা, চিকিৎসাসেবা পেতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া, কৃষকের উৎপাদন ব্যয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, এসব বিষয় সরেজমিনে দেখলে উন্নয়ন পরিকল্পনায় আরও গুরুত্ব পাবে বলে তারা মনে করেন।‎‎অষ্টগ্রামের মানুষের মতে, হাওরাঞ্চলের উন্নয়ন শুধু সড়ক নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়। প্রয়োজন আধুনিক নৌপরিবহন ব্যবস্থা, দক্ষ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও মৎস্যখাতে প্রযুক্তির ব্যবহার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনা। এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ ও পর্যটনের সম্ভাবনাও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।‎‎স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা বলেন, অষ্টগ্রামের রয়েছে সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতি, নৌকার ঐতিহ্য, হাওরের জীবনঘনিষ্ঠ সাহিত্য ও সংগীতের এক স্বতন্ত্র ধারা।

প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পর্যায়ের ব্যক্তিদের সফর এ ঐতিহ্যকে নতুনভাবে পরিচিত করার সুযোগও তৈরি করতে পারে।‎‎তবে এ প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত তারেক রহমানের অষ্টগ্রাম সফর নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা নির্ধারিত কর্মসূচির তথ্য পাওয়া যায়নি।

ফলে বিষয়টি আপাতত স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা ও আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।‎‎অষ্টগ্রামের মানুষের বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী ও দেশের জাতীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা যদি এই হাওরাঞ্চলে এসে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, তাহলে উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্থানীয় বাস্তবতার প্রতিফলন আরও স্পষ্ট হবে। সেই প্রত্যাশা থেকেই অনেকেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অষ্টগ্রাম সফরের আশা করছেন। একই সঙ্গে তারা চান, অষ্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সম্ভাবনা ও মানুষের জীবনসংগ্রাম জাতীয় পরিসরে আরও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসুক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *