আহমেদ সিফাত, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর পৌর এলাকার খরকমারা গ্রামে একটি কুড়ার মিল থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসন অভিযান চালিয়ে মিলটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় কিশোরগঞ্জ-৬ এর সাংসদ পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পৌর এলাকার রেললাইনের পশ্চিম পাশে খরকমারা গ্রামের জিল্লু মিয়ার মালিকানাধীন একটি কুড়ার মিলে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল মজুত রয়েছে-এমন খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম “Our Kuliarchar TV” ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করেন। লাইভ প্রচারের পর বিষয়টি দ্রুত স্থানীয় জনসাধারণ ও প্রশাসনের নজরে আসে।
খবর পেয়ে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াছিন খন্দকার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এসময় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও সেখানে যান এবং মিলটি পরিদর্শন করেন। প্রাথমিকভাবে মিলের ভেতরে শতাধিক বস্তা সরকারি চাল দেখতে পাওয়া গেলে ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে মিলটিতে তালা লাগানোর নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে কুলিয়ারচর এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দীন প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী মিলটিতে তালা লাগান এবং উদ্ধার হওয়া চালের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেন।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল কীভাবে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন কুড়ার মিলে পৌঁছালো এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত কি না-তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এলাকাবাসী দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে বিষয়টি জানার পর পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি দায়ীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া চালের উৎস, কীভাবে তা সেখানে মজুত করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত-সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি খাদ্যসামগ্রী আত্মসাৎ বা অবৈধ মজুতের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসবে।
