জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ

জাতীয় শিক্ষা পদক-২০২৬ এ কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন সতাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আসমা চৌধুরী। তাঁর এ অর্জনে বিদ্যালয় পরিবার, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে।দীর্ঘদিন ধরে তিনি সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষকতা পেশায় দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
শিক্ষকতাকে তিনি শুধু পেশা হিসেবে নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করেন।জানা যায়, আসমা চৌধুরী নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা, শৃঙ্খলাবোধ, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সহজবোধ্য ও শিক্ষার্থীবান্ধব পাঠদান পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়।পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শ্রেণিকক্ষে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারেও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
জাতীয় শিক্ষা পদক-২০২৬ এর মূল্যায়নে পাঠদানের দক্ষতা, শিক্ষার্থীদের ফলাফল, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ততা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং শিক্ষা বিস্তারে অবদানের মতো বিভিন্ন সূচকে বিচার-বিশ্লেষণ শেষে তাঁকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
সহকর্মীরা জানান, আসমা চৌধুরী একজন দায়িত্বশীল, পরিশ্রমী ও মানবিক গুণসম্পন্ন শিক্ষক। তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীর মেধা ও সম্ভাবনা বিকাশে আন্তরিকভাবে কাজ করেন।বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী জাওয়াদ আল অতুল বলেন, “ম্যাডাম খুব সুন্দরভাবে পড়ান। তিনি শুধু বইয়ের পড়া শেখান না, ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষাও দেন। তাঁর ক্লাস সবসময় ছিল আনন্দময় ও শিক্ষণীয়।
”অভিভাবকরাও তাঁর এই অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে তিনি এ সম্মানের যথার্থ দাবিদার।অনুভূতি প্রকাশ করে আসমা চৌধুরী বলেন, “এই অর্জন শুধু আমার একার নয়। বিদ্যালয়ের সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার ফলেই এ সম্মান অর্জন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।
”শিক্ষাঙ্গনে তাঁর এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং পুরো শিক্ষা পরিবারের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের প্রত্যাশা, তাঁর মতো নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে আগামী দিনের আলোকিত প্রজন্ম।
