শেখ নয়ন ফয়েজী

নওগাঁ সদর উপজেলার তিলকপুর ও বক্তারপুর ইউনিয়নে রাতের আঁধারে সরকারি গাছ কাটার মহোৎসব চলছে। অভিযোগ স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সুযোগ পেলেই ওই দুই ইউনিয়নের কোথাও না কোথাও গাছ কাটছে । সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের কঠোর পদক্ষেপের অভাবে গাছ কাটার এই প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিলকপুর ও বক্তারপুর ইউনিয়নে রাস্তা ও বেড়িবাঁধের পাশ দিয়ে হাজার হাজার ছোট বড় বিভিন্ন রকমের লাগানো গাছ। তিলকপুর ইউনিয়নের ছিটকি তলা, আদম দুর্গাপুর ও শান্তির মোড় ব্রিজের দুই পাশে এবং ব্রিজ থেজে সুখ ধানী এলাকা পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ছোট যমুনা নদীর বেড়ি বাঁধ ও রাস্তার দুই পাশে থাকা প্রায় শতাধিক গাছ নিধন করেছে স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন।
এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি গাছ কেটেছে তিলকপুর ইউনিয়ন এলাকায়। আর মাঝে মাঝে গাছ কাটার পরীক্ষা করেছে বক্তারপুর ইউনিয়ন এলাকায়। এই ইউনিয়নের মোক্তারপুর এলাকায় একাধিক জায়গায় কাটা গাছের গোড়া দেখা যায়। এছাড়া একটা গাছের গোড়ায় অর্ধেক কেটে রেখেছে। যমুনা নদীর পাড়েও কিছু গাছ কাটা আছে।
সরকারি গাছ নিধনের ঘটনায় এলাকায় চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এসব গাছ কাটা হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পট পরিবর্তনের কয়েক মাস পর থেকে শুরু হয়েছে এই গাছ কাটার মহোৎসব- যা এখনো চলমান রয়েছে। তারা আরও বলেন, নদীর বেড়িবাঁধে থাকা গাছগুলো নদী ভাঙ্গন রোধ এবং বাদ রক্ষা করতে বড় ভূমিকা রাখে। কিন্তু এসব গাছ কাটার কারণে পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি বাঁধ ভাঙ্গার ঝুঁকিও বেড়ে চলেছে। অনেকে গাছ কাটার বিষয়টি জানলেও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ভয়ে প্রকাশ করছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সচেতন ব্যক্তি বলেন, সম্প্রতি গাছ কাটার খবর পেয়ে কিছু লোক ঘটনাস্থলে এসে দেখতে পায় গাড়িতে গাছ গুলো নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন আমরা গাড়ি চালায়। কে গাছ কেটেছে তাদের নাম না বললেও তারা জেলার মান্দা থেকে এসেছে বলে জানান।
জানতে চাইলে বক্তারপুর ইউপি চেয়ারম্যান সারওয়ার কামাল চঞ্চল মুঠোফোনে বলেন, একটা গাছ কেটেছিল কে বা কারা। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানতে পেরে গাছটি নিয়ে চলে যায়। এছাড়া এই এলাকায় আর কোথাও গাছ কেটেছে কিনা আমার জানা নেই। তবে এসব বিষয়ে আমার পক্ষ থেকে কোনো ছাড় নেই।
জানতে চাইলে এই এলাকায় অনেক গাছ কাটা হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিলকপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সোহেল রানা। তিনি মুঠোফোনে বলেন, গাছ কাটার এই বিষয়টি আমি সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করেছি। এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকেও অবগত করেছি। তারপরও আজ পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেননি সংশ্লিষ্টরা।
এলাকার দায়িত্বে থাকা নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু জোবায়ের এর কাছে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
শনিবার ২০ সেপ্টেম্বর আড়াইটার দিকে জানতে চাইলে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবনুল আবেদীন মুঠোফোনে বলেন, এধরণের কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। যেহেতু আপনি বললেন, তাই বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো।
জানতে চাইলে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ মুঠোফোনে বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। এরকম বিষয় মৌখিকভাবে কানে এসেছে। যদি কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়, তাহলে আমরা খোঁজ খবর নিয়ে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
