নিজস্ব প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হয়েছে। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) অষ্টগ্রাম সাহেববাড়ি খ্যাত ঐতিহ্যবাহী আওলাদীয়া দরবার শরীফে সুন্নী আশেকানদের সম্মিলিত উদ্যোগে হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর ১৫০০ তম শুভ আগমন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দরবার শরীফের গদ্দীনশীন পীর সাহেব হযরত মাওলানা আলহাজ্ব সৈয়দ জহুরুল ইসলাম জুয়েল। তিনি বলেন,
“পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বাৎসরিক সভা আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে গত ৪০ বছর যাবত এই দরবারে পালন করে আসছি। রাসুলের (সা.) আগমনী আনন্দ বিশ্বব্যাপী রহমত হিসেবে উদযাপিত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মিলাদুন্নবী পালিত হচ্ছে।
দিনব্যাপী আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শতাধিক ওলামায়ে কেরাম যোগদান করেন। তারা বলেন,
“পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হচ্ছে সৃষ্টিকুলের সবচেয়ে বড় ঈদ। এটি কেবল মুসলিম জাতির জন্য নয়, বরং সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য আনন্দের দিন। রাসুলের (সা.) জন্মদিনে যারা খুশি হন, আল্লাহ্ তাদের ক্ষমা করে দেন।”
অনুষ্ঠানে লক্ষাধিক রাসুলপ্রেমী আশেকান কাফেলা আকারে অষ্টগ্রামে আগমন করেন। তারা গরু, ছাগল জবাই করে তাবারকের ব্যবস্থা করেন এবং মিলাদুন্নবীর আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

অনুষ্ঠানটি সকাল থেকে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। বাদ আসর হামদ ও নাত, বাদ মাগরিব থেকে রাতব্যাপী ধারাবাহিকভাবে ওলামায়ে কেরাম মিলাদুন্নবীর গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে বয়ান করেন। গভীর রাতে হযরত সৈয়দ শাহ ছাবিদ (রহ.) হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্রদের পাগড়ি প্রদান করা হয়। ফজরের নামাজ শেষে বিশেষ আখেরী মুনাজাতের মাধ্যমে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠানের সার্বিক সঞ্চালনা ও ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ ফারুক আহমেদ।
