নিজেদের ফাঁদেই কুপোকাত বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে স্পিনারদের সহায়তা দিতে উইকেট বানিয়ে জেতার অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু নিজেদের বানানো কৌশল বুমেরাং হয়ে গেল নাজমুল হোসেন শান্তদের। মিরপুরের ডেরায় ক্যারিবিয়ান স্পিনে ব্যাটাররা হলেন কুপোকাত। পরে নিজেদের স্পিনাররা থাকলেন বিবর্ণ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে বড় হারে সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ। গতকাল মিরপুরে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আলোকস্বল্পতা, বৃষ্টি, বজ্রপাত মিলিয়ে চার দিনে অপ্রত্যাশিতভাবে খেলা বন্ধ হয়েছে ৯ বার। প্রতিবারই নষ্ট হয়েছে কিছু না কিছু সময়। প্রথম তিন দিনে নির্ধারিত ২৭০ ওভারের জায়গায় খেলা হতে পেরেছে প্রায় ৬০ ওভার কম। মিরপুর টেস্ট তারপরও শেষ চতুর্থ দিনেই।দলকে জিতিয়ে ৮১ রানে অপরাজিত ছিলেন ব্র্যান্ডন কিং। জন ক্যাম্পবেল ৫৫ বলে করেন ৪৯। কেভাম হজ ২৭ বলে অপরাজিত ছিলেন ৩১ রানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের নায়ক অবশ্য তারা কেউ নন। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৬ রানে ৫ উইকেট নেন রোস্টন চেজ, ৬৩ রানে ৪ উইকেট নেন জোমেল ওয়ারিকন। ম্যাচে এই বাঁহাতি স্পিনার নেন ৯ উইকেট।মিরপুরে অসমান বাউন্স, টার্নিং উইকেটে ১৭০ রানের ট্রিকি লক্ষ্যে শুরুতে কিছুটা নড়বড়ে ছিল সফরকারীরা। বেশ কয়েকবারই তৈরি হয় সুযোগ। তবে উইকেট আসেনি। ক্যারিবিয়ান দুই ওপেনার ব্র্যান্ডন কিং আর জন ক্যাম্পবেল মিলে গড়েন শতরানের জুটি। একাধিকবার খেলা বন্ধ হলেও তাদের মোমেন্টাম নষ্ট হয়নি। ওয়ানডে মেজাজে রান তোলা ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম উইকেট হারায় ২১তম ওভারে। তিন স্পিনার ব্যর্থ হলে পেসারদের হাতে দেওয়া হলো বল। ক্যাম্পবেলকে ভেতরে ঢোকা বলে বোল্ড করেন শরিফুল ইসলাম। তিনে নামা ত্যাগনারায়ন চন্দরপল পুল করে হাসান মাহমুদের বলে ক্যাচ দেন খানিক পর। হাসান কয়েকবার পরাস্ত করেন ব্যাটারদের। তবে তা উইকেট নেওয়ার মতো যথেষ্ট ছিল না। অবশ্য তার বলে ক্যাচ ফসকেছে। সিøপে একবার কিংয়ের ক্যাচ ফেলেন অধিনায়ক শান্ত। পরে তার ক্যাচ পড়ে বদলি নামা ইবাদত হোসেনের হাত থেকে।মিরপুরের উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জোমেল ওয়ারিকন, রোস্টন চেজ যেভাবে বল টার্ন করিয়েছেন, সুযোগ তৈরি করেছেন তার ছিঁটেফোটাও করতে দেখা যায়নি তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজদের। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের তিন স্পিনারই ছিলেন উইকেটশূন্য। তবে দ্বিতীয় ইনিংস নয়, বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত মনে করছেন তারা আসলে ম্যাচ থেকে পিছিয়ে গেছেন প্রথম ইনিংসে যথেষ্ট রান না করায়। ম্যাচ হেরে গোমরা মুখে সংবাদ সম্মেলনে এসে শান্ত বলেন, প্রথম ইনিংসে উইকেট ব্যাটারদের অনুকূলে থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত রান করতে না পারাটাই হারের মূল কারণ, ‘আমার কাছে মনে হয় যে এই ম্যাচে আমরা ফার্স্ট ইনিংসে ব্যাটিংয়ে পিছিয়ে গেছি। ফার্স্ট ইনিংসে উইকেটটা যেরকম ছিল এবং আমরা যেভাবে দিন শেষ করলাম, ওইখানে আমরা অনেকটাই পিছনে চলে গেছি ম্যাচের। আমরা জানতাম যে পরের দিকে ব্যাটিং করাটা কঠিন হবে। ওই জায়গাটাতে যদি আমরা আরেকটু বড় রান করতে পারতাম, তাহলে লিডটা আরেকটু বড় পেতাম এবং খেলাটা ডিফারেন্ট হতে পারত।’শান্তর কাঠগড়ায় থাকছেন বোলাররাও। ১৭০ রানের পুঁজি নিয়েও জয়ের আশায় ছিলেন তারা। কারণ স্পিন সহায়ক উইকেটে বল ঘুরছিল, অসমান বাউন্সও ছিলো। কিন্তু বাংলাদেশের স্পিনাররা দ্বিতীয় ইনিংসে ছিলেন উইকেটশূন্য। শান্ত বলেন, ‘আমার মনে হয় যে চতুর্থ ইনিংসে আমরা ভালো বল করিনি। আমাদের সেকেন্ড ইনিংসে আমরা ভালো বল করিনি। ১৭০ কম রান, অবশ্যই কম রান। কিন্তু আমার মনে হয় যে তারপরেও আমরা আরেকটু ভালো বল করতে পারতাম।’সিনিয়র ব্যাটার হিসেবে নিজের কাঁধেও দায় চেপে নিয়েছেন শান্ত। তিনি বলেন, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকার পরও প্রথম ইনিংসে দায়িত্ব নিয়ে বড় ইনিংস খেলতে না পারাটা দলের ওপর প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার স্বপ্নও ফিকে হয়ে গেছে অনেকটা। টেবিলে চার নম্বর থেকে পাঁচে নেমে গেছে শান্তর দল। এক ধাপ এগিয়ে তাদের জায়গায় এখন ভারত। বাংলাদেশ অধিনায়ক বুঝতে পারছেন, এখন যে কঠিন হয়ে গেছে ফাইনালের পথ, ‘সত্যি বলতে এটি (ফাইনাল খেলা) এখন খুব কঠিন। তবে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আমি যা বলেছিলাম, আমরা একটি করে ম্যাচ নিয়ে ভাবছি। এই ম্যাচে আমরা নিজেদের সেরাটা খেলতে পারিনি। এই ম্যাচের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় আমরা।’আগামী ৫ নভেম্বর থেকে সিলেটে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। সংক্ষিপ্ত স্কোরবাংলাদেশ : ২৭২ ও ১৪২ (নাঈম ৫২, জাকের ২২; চেজ ৫/৩৬, ওয়ারিকান ৪/৬৩)।ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ২৪৫ ও ১৭০/২ (কিং ৮১*, ক্যাম্পবেল ৪৯; হাসান ১/১৪)।ফল : ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা : জোমেল ওয়ারিক্যান।সিরিজ : দুই ম্যাচে ১-০তে এগিয়ে উইন্ডিজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *