এ কে এম মোহাম্মদ:আলী, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি:

প্রতিদিনের মতোই সকালে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন মুক্তার হোসেন (৫৬)। গন্তব্য ছিল কর্মস্থল; কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ। উকিলপাড়ার বাসা থেকে বাইসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। হয়তো মনে ছিল দিনের কাজ, ছিল স্বজনদের কাছে ফিরে আসার চেনা প্রতিশ্রুতি। কিন্তু কে জানত, কর্মস্থলে পৌঁছানোর আগেই শেষ হয়ে যাবে তাঁর পথচলা! অফিসে আর ফেরা হলো না, ফেরা হলো না প্রিয়জনদের কাছেও। একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিভে গেল তাঁর জীবনের আলো।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরের শোলাকিয়া ঈদগাহ রোডে পপুলার হাসপাতালের মোড়ে ঘটে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যান বাইসাইকেল আরোহী মুক্তার হোসেন। সংঘর্ষের পর দুই যানবাহনের মাঝখানে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। মুহূর্তেই থেমে যায় তাঁর স্বাভাবিক পথচলা।প্রত্যক্ষদর্শী ও সহকর্মীরা জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে উকিলপাড়ার বাসা থেকে বাইসাইকেল নিয়ে জেলা পরিষদের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন মুক্তার হোসেন। শহরতলীর সতাল এলাকায় অবস্থিত কর্মস্থলে যাওয়ার পথেই শোলাকিয়া এলাকার পপুলার হাসপাতালের মোড়ে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।মুক্তার হোসেন ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের সিনিয়র অফিস সহায়ক। তাঁর বাড়ি জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলা সদরের অষ্টগ্রাম গ্রামে। তিনি মন্নর আলীর ছেলে। প্রতিদিনের মতো কর্মস্থলের উদ্দেশে বেরিয়ে তাঁর এভাবে নিথর হয়ে ফিরে আসার খবর সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে। যে মানুষটি সকালে স্বাভাবিকভাবে কর্মস্থলের পথে পা বাড়িয়েছিলেন, দিনের শুরুতেই তাঁর জীবনের এমন আকস্মিক সমাপ্তি কেউ মেনে নিতে পারছেন না।মুক্তার হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান। তাঁর মৃত্যুতে জেলা পরিষদ পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের আবহ বিরাজ করছে। প্রতিদিনের চেনা পথ, কর্মস্থলে যাওয়ার সেই সাধারণ যাত্রা; সবকিছুই যেন এক মুহূর্তে পরিণত হলো এক অপূরণীয় বেদনার স্মৃতিতে।
