
এস,এম, নাদিরুজ্জামান আজমল।
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম হাওরে জীবন বাজি রেখে দুইজনকে রক্ষা করে নিজেই প্রাণ হারানো ‘হাওরবীর’ শহীদ সাবিকুল ইসলামের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে ব্যতিক্রমধর্মী এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয়েছে তাঁকে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) অষ্টগ্রাম-মিঠামইন মহাসড়কে আয়োজিত হয় ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি মানবিক ম্যারাথন। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৩০ জন তরুণ-যুবা অংশগ্রহণ করেন। শুরু হয় সকালবেলা, শেষ হয় বর্ষায় ভেজা হাওরের মাঝে এক অনন্য আবেগে।
ম্যারাথনের সূচনায় সাবিকুল ইসলামের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয় এবং এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত সকলে ‘হাওরবীর’ সাবিকুলের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন হিমেল, দ্বিতীয় হন ইমন এবং তৃতীয় হন রাব্বিল। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার এবং সব অংশগ্রহণকারীদের মাঝে মেডেল তুলে দেন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক রেজাউল করিম সেলিম।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অষ্টগ্রাম থানার পুলিশ পরিদর্শক তুষার সরকার, সমাজকর্মী আরাফাত রহমান, তোফাজ্জল হোসেন তপু, শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক কর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
কে ছিলেন সাবিকুল ইসলাম?
সাবিকুল ইসলাম ছিলেন কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের বরাগীরকান্দি গ্রামের আবদুর রহিমের ছেলে। ২০২৩ সালের ১০ জুলাই, তিনি তাঁর দুই বন্ধুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে বের হন সদ্য নির্মিত ‘ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়ক’ দেখতে। সড়কের পাশেই একটি ডিঙি নৌকায় শিশুসহ ৭ জন যাত্রী নিয়ে নৌকাটি ডুবে যায়।
তাৎক্ষণিকভাবে সাবিকুল বাইক রেখে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে দুইজনকে উদ্ধার করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তৃতীয়জনকে বাঁচাতে গিয়ে তিনি নিজেই পানিতে তলিয়ে যান এবং সেখানেই মৃত্যু হয় এই অকুতোভয় তরুণের।
তাঁর এই আত্মোৎসর্গীক আত্মত্যাগ কেবল অষ্টগ্রাম নয়, সারা হাওরাঞ্চল এবং দেশব্যাপী আলোড়ন তোলে। ‘হাওরের বীর’ নামে পরিচিতি পাওয়া সাবিকুল ইসলাম আজ তরুণ প্রজন্মের জন্য এক মহান অনুপ্রেরণার নাম।