রুহুল আমিন, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ)

চলতি আমন মৌসুমে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের কৃষকদের মধ্যে সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। একদিকে ডিলারদের কাছে সার মিলছে না, অন্যদিকে খোলা বাজারে চড়া দামে কিনতে হচ্ছে সার। এতে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এলাকার কৃষকরা।
সরেজমিনে গতকাল বুধবার ধলা ইউনিয়নের ভেইয়ারকোনা গ্রামের কৃষক মুসলিম উদ্দিন বলেন, “২০ কাটা জমিতে রোপা আমন চাষ করেছি, আরও ৬০ কাটা জমিতে সবজি চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করেছি। কিন্তু দিনের পর দিন ডিলার পয়েন্টে সার পেতে ধরনা দিতে হচ্ছে। মাঝে মাঝে কিছু সার পেলেও চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছে না। খোলা বাজারে একই সার কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, এ সংকটের পেছনে ডিলারদের সিন্ডিকেট ও কৃষি অফিসের গাফিলতি রয়েছে।
রাউতি ইউনিয়নের মেঁছগাঁও গ্রামের কৃষক তাজুল ইসলাম বলেন, ডিলারদের গুদামে সার থাকলেও তারা সরবরাহ না করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন। সারের অভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে আমন ধান, বাধাগ্রস্ত হচ্ছে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ। কৃষকদের অভিযোগ, এসব অনিয়ম কৃষি অফিস জানলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। মাঠপর্যায়ে তদারকির অভাব ও ডিলারদের সঙ্গে গোপন সমঝোতার কথাও উল্লেখ করেন তারা।
ডিলারদের এক সূত্র জানায়, আগস্ট–সেপ্টেম্বর মাসে রোপা আমনের জন্য এবং অক্টোবর–নভেম্বর মাসে শীতকালীন সবজি চাষের জন্য সার প্রয়োজন হয়। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ না পাওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে বিসিআইসির ১০ জন ও বিএডিসির ৫ জন সার ডিলার রয়েছে। সরকার নির্ধারিত দরে ইউরিয়া সার বিক্রি হওয়ার কথা প্রতি কেজি ২৭ টাকা (প্রতি বস্তা ১,৩৫০ টাকা), এমওপি ২০ টাকা (প্রতি বস্তা ১,০০০ টাকা), টিএসপি ২৭ টাকা (প্রতি বস্তা ১,৩৫০ টাকা) ও ডিএপি ২১ টাকা (প্রতি বস্তা ১,০০০ টাকা)। কিন্তু বাস্তবে খোলা বাজারে ইউরিয়া বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়, টিএসপি ৩৭ টাকায়, ডিএপি ২৮ টাকায় এবং এমওপি ২৮ টাকায়।
তাড়াইল সদর বাজারের বিসিআইসি সার ডিলার শাহাব উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, চলতি মাসে টিএসপি ৮১ বস্তা, এমওপি ২৪৫ বস্তা, ডিএপি ১৮৭ বস্তা ও ইউরিয়া ৩৪০ বস্তা বরাদ্দ পেয়েছি, যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। একই কথা বলেন ধলা ইউনিয়নের সার ডিলার গৌরাঙ্গ চন্দ্র পাল।
কৃষি উপসহকারীগণ বলেন, ধানের জমিতে এখন ডিএপি সারের প্রয়োজন নেই। এটি জমি প্রস্তুতের সময় প্রয়োগ করা হয়। এই সময়ে ডিএপি ব্যবহার করলে ফলনের চেয়ে ক্ষতি বেশি হতে পারে। এখন ইউরিয়া ও এমওপি সার প্রয়োগ করলেই যথেষ্ট।
পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বিকাশ রায় বলেন, বর্তমানে আমাদের সারের মজুত গত বছরের তুলনায় বেশি। কিছু ব্যবসায়ী পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন। আবার অনেকে আতঙ্কে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সার কিনে রাখছেন। আমরা ডিলার পয়েন্টে নিয়মিত মনিটরিং করছি এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বাড়তি বরাদ্দের জন্য অনুরোধ করেছি।
