‎দুই ফুট জমি নিয়ে উত্তাল অষ্টগ্রাম, শতবর্ষী মাদ্রাসায় বিক্ষোভ

মোঃ নাদিরুজ্জামান আজমল

কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত অষ্টগ্রাম উপজেলায় মাত্র দুই ফুট জমি নিয়ে প্রশাসন ও শতবর্ষী ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকালে অষ্টগ্রাম হোসেনিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

‎জানা গেছে, ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠাতা খান বাহাদুর সৈয়দ মোয়াজ্জেম উদ্দিন হোসেন মাদ্রাসার জন্য ৫০ শতাংশ জমি ওয়াকফ করে দেন। সম্প্রতি পরিমাপের সময় মাদ্রাসার একটি স্থাপনা অষ্টগ্রাম বড় বাজার ডিসি রোডের সরকারি জমির দুই ফুটের মধ্যে চলে এসেছে বলে দাবি করে প্রশাসন। এর ভিত্তিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আব্দুল আহাদ উচ্ছেদ অভিযান চালানোর উদ্যোগ নেন।

‎অন্যদিকে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি ২০১৫ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদের জনসভায় অংশগ্রহণের নিরাপত্তার জন্য মাদ্রাসা এলাকার ভেতর দিয়ে একটি অস্থায়ী রাস্তা নির্মাণ করা হয়। ওই রাস্তার জন্য মাদ্রাসার প্রায় ৭ ফুট জমি সরকারি কাজে চলে যায়। এখন উল্টো দুই ফুট জায়গার অজুহাতে শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা উচ্ছেদ করা অন্যায্য।

‎মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা জাকির হোসেন মুকুল বলেন,

‎এই মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে একটি কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করে আসছে। ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্যে আঘাত হানার চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। জেলা প্রশাসনের কাছে আমরা ন্যায্য ও স্থায়ী সমাধান চাই।

এসময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক নজরুল।

‎এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আব্দুল আহাদ বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে স্থাপনা সরানোর জন্য আগেই অবহিত করা হয়েছিল। আজ তারা বিক্ষোভ করেছে। বিষয়টি লিখিতভাবে জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠানো হবে এবং নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা শতবর্ষী মাদ্রাসার ঐতিহ্য ও শিক্ষা কার্যক্রম রক্ষায় প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও সমঝোতামূলক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *