কেন্দুয়ায়  সংখ্যালঘু পরিবারের  জমি দখল ও প্রাণনাশের  অভিযোগ, আরেক হিন্দু পরিবারের বিরুদ্ধে

হৃদয় রায় সজীব, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি।

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের পাইমাসকা গ্রামে সংখ্যালঘু পাল পরিবারের জমি দখল, প্রাণনাশের হুমকি ও ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ও আরেক হিন্দু পরিবারের  চক্রের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মিন্টু চন্দ্র পাল (৩৬ ) গত ৫ আগস্ট ২০২৫ তারিখে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ  জমা দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মৃত পরিতোষ চন্দ্র পালের ছেলে মিন্টু চন্দ্র পাল ও তার পরিবার বহু বছর ধরে ওই এলাকায়  মামার বাড়িতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস  করে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি  ভজন চন্দ্র পাল ও অসীম চন্দ্র পাল এলাকার কিছূ লোকজন নিয়ে  একটি সন্ত্রাসী দল তাদের মালিকানাধীন ১২ কাঠা  ( ১২০ )শতক  জমি জোরপূর্বক দখল করে নেয়। বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন থাকলে ও  বিবাদী  পক্ষ মামলাটি তুলে নিতে মিন্টুকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। যার কারণে মিন্টু পাল রয়েছেন বাড়ি ছাড়া।

মিন্টু চন্দ্র পাল জানান, ভজন গং  এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।  আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ২০২৪  সালের ২ সেপ্টেম্বর পাশের গ্রামের কামাল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে  ৩০ হাজার টাকায় ভাড়া করা টিলার মেশিন দিয়ে ওই জমিতে জোরপূর্বক চাষাবাদ করেন ও দখলে নিয়ে যায়।
‎
‎তিনি আরো বলেন, বলেন, আমি ও আমার পরিবার প্রতিদিন হুমকি ও ভয়ভীতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমি ভজন গংদের হুমকির ভয়ে বর্তমানে বাড়িতে আসতে পারি না। আমার স্ত্রী ও সন্তানরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। জমি ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ চাই।
‎
‎এ বিষয়ে নেত্রকোনা  পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম বলেন,  বিষয়টি আমি গুরুত্বসহ দেখব। কোন অন্যায় যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখব। আমি অচিরেই প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করব।
‎
‎এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার পর এতদিনেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা জানান, বহুবার শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও প্রতিপক্ষের আক্রমণাত্মক আচরণে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আসামিপক্ষ জমি দখলের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *