২০ শিক্ষার্থীকে বাঁচানো সেই শিক্ষিকা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার ভাতিজি

এটিভি অনলাইন ডেক্স:

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্তের হৃদয়বিদারক ঘটনায় আলোচনায় উঠে এসেছেন এক সাহসী নারী—শিক্ষক মাহরিন চৌধুরী। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁচিয়েছেন ২০ কোমলমতি শিশুকে, অথচ নিজের প্রাণ রাখতে পারেননি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সন্ধ্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুতে গোটা দেশ শোকাহত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে তার আত্মত্যাগের কথা, ভেসে যাচ্ছে চোখের জলে।

তবে এই শিক্ষিকার সাহসিকতার পাশাপাশি উঠে এসেছে তার অভিজাত পারিবারিক পরিচয়ও। মাহরিন চৌধুরী ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খালাতো ভাই এম আর চৌধুরীর কন্যা। এক ভিডিওতে নিজেই বলেছিলেন—“আমি তারেক রহমানের বোন, আমার চাচা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।”

শিক্ষিকার গ্রামের বাড়ি নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার চৌধুরী পাড়ায়। স্বামী মনসুর হেলাল জানিয়েছেন, মাহরিনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে পারিবারিক কবরস্থানে। জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে, যেখানে এলাকাবাসীর ঢল নামে।

তবে মাহরিন কখনোই নিজের রাজনৈতিক পরিচয় সামনে আনতেন না। পরিবার জানিয়েছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবন্দি অবস্থায় তিনি নিয়মিত হাসপাতালে খাবার পৌঁছে দিতেন, যেখানে দলের প্রভাবশালী নেতারাও যেতে সাহস পেতেন না। অথচ মাহরিন ছিলেন নীরব, প্রচারবিমুখ। বাইরের সবাই তাকে চিনত একজন নিবেদিত শিক্ষক হিসেবে।

সেই শিক্ষক মাহরিন নিজের জীবনের বিনিময়ে বাঁচিয়ে গেলেন ২০টি অবুঝ প্রাণ। তিনি হয়তো আর ফিরে আসবেন না, কিন্তু তার আত্মত্যাগ এবং সাহসিকতা হয়ে থাকবে জাতির স্মৃতিতে চিরভাসমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *