শেষ দিনে প্রচার, সমালোচনার পর সময় বাড়ানো: কুলিয়ারচরে যুব উন্নয়নের প্রশিক্ষণ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে বিতর্ক

আহমেদ সিফাত, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সরকারি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে আবেদনের সুযোগ সবার কাছে পৌঁছানোর কথা থাকলেও কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ২১ দিনব্যাপী পোশাক তৈরির প্রশিক্ষণ কোর্সের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রচার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রথমে আবেদনের শেষ তারিখ ২৬ অক্টোবর উল্লেখ করা হলেও উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে সেটি প্রচার করা হয় শেষ দিনেই। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হলে পোস্টের ছবি পরিবর্তন করে আবেদনের সময়সীমা ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়।এ ঘটনায় বিজ্ঞপ্তি প্রচারে বিলম্ব, আবেদনকারীদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে সময়সীমা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।সরকারি নথিতে বিজ্ঞপ্তির তারিখ ৬ অক্টোবর উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে, উপজেলা প্রশাসন কুলিয়ারচরের ফেসবুক পেজের পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের শেষ তারিখ ছিল ২৬ অক্টোবর। ফলে বিজ্ঞপ্তি জারির পর প্রায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পর শেষ দিনে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করায় আগ্রহী তরুণ-তরুণীদের আবেদনের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।ফেসবুক পোস্টের Edit History পর্যালোচনায় দেখা যায়, পোস্টটির আগের সংস্করণে যুক্ত থাকা একটি ছবি পরে সরিয়ে নতুন ছবি যুক্ত করা হয়েছে। সংশোধিত ছবিতে ‘সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি’ উল্লেখ করে আবেদনের শেষ তারিখ ২৮ অক্টোবর দেখানো হয়। অর্থাৎ একই প্রশিক্ষণ কোর্সের বিজ্ঞপ্তিতে প্রথমে ২৬ অক্টোবর এবং পরে ২৮ অক্টোবর—দুটি আলাদা সময়সীমা প্রকাশিত হয়।বিষয়টি নিয়ে পোস্টের মন্তব্যের ঘরে প্রশ্ন তোলেন স্থানীয়রা। নাঈম ইসলাম নামের একজন মন্তব্যে লেখেন, আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে ৬ অক্টোবর থেকে এবং শেষ তারিখ ২৬ অক্টোবর। অথচ উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক আইডিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে শেষ দিনে। তিনি বিষয়টিকে হাস্যকর বলে মন্তব্য করেন।ফয়সাল আহমেদ রাজিব নামের আরেকজন মন্তব্যে প্রশ্ন তোলেন, আবেদনের শেষ দিনেই কেন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলো। তিনি এ বিষয়ে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।এসব মন্তব্য ও সমালোচনার পর পোস্টের বিজ্ঞপ্তির ছবি পরিবর্তন করে আবেদনের সময়সীমা দুই দিন বাড়িয়ে ২৮ অক্টোবর করা হয়। ফেসবুকের সম্পাদনার ইতিহাসেও আগের ছবি সরিয়ে নতুন ছবি যুক্ত করার তথ্য দেখা যায়।এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে ২৬ অক্টোবরকে শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়ে থাকলে সেটি সাধারণ মানুষের কাছে আগে থেকে কতটা প্রচার করা হয়েছিল। একই সঙ্গে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠার পর সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও প্রথম বিজ্ঞপ্তির সময়সীমা নির্ধারণে কোনো ভুল ছিল কি না, তা নিয়েও ব্যাখ্যার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।কুলিয়ারচর উপজেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের প্রশিক্ষণসংক্রান্ত তথ্যে বলা হয়েছে, স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণের জন্য উপজেলা কার্যালয় থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও আবেদন গ্রহণ করা হয়। এসব প্রশিক্ষণে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীদের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কুলিয়ারচর উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এবং ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাস বেকার যুবক-যুবতীরা পোশাক তৈরির প্রশিক্ষণে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করতে হবে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের YTMS প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন শেষ হওয়ার পর ২৯ অক্টোবর সকাল ১০টায় মৌখিক পরীক্ষা এবং ১ নভেম্বর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত প্রশিক্ষণ আয়োজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য বেকার তরুণ-তরুণীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। তাই সম্ভাব্য আবেদনকারীদের কাছে সময়মতো বিজ্ঞপ্তি পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ। প্রচারে বিলম্ব হলে বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত সরকারি ওয়েবসাইট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ অনুসরণ করেন না, তাঁরা আবেদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।এ বিষয়ে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, বিজ্ঞপ্তিটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে আবেদনকারীদের সুবিধার্থে উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে প্রচারের ব্যবস্থা করেন তিনি। তবে প্রচারের সময় দেখতে পান, সেদিনই আবেদনের শেষ তারিখ। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আবেদনের সময়সীমা দুই দিন বাড়ানো হয়।তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞপ্তিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের নয়, এটি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের। জনস্বার্থ বিবেচনায় তিনি উপজেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে এটি প্রচারের ব্যবস্থা করেন।অন্যদিকে, কুলিয়ারচর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিজ্ঞপ্তিটি বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের গ্রুপে এবং পরিষদের নোটিশ বোর্ডে প্রচার করা হয়েছিল।তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে উপজেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তিটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।সব মিলিয়ে, কুলিয়ারচরে যুব উন্নয়নের প্রশিক্ষণ বিজ্ঞপ্তি ঘিরে মূল প্রশ্ন এখন শুধু আবেদনের শেষ তারিখ ২৬ না ২৮ অক্টোবর—তা নয়; বরং বিজ্ঞপ্তিটি কখন, কোথায় এবং কীভাবে প্রচার করা হয়েছিল, তা-ও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। সরকারি প্রশিক্ষণের সুযোগ যেন প্রচারের ঘাটতির কারণে প্রকৃত উপকারভোগীদের নাগালের বাইরে না থাকে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *