আহমেদ সিফাত, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ভিটিগাঁও গ্রামে সুবর্ণা (২৪) নামে দুই সন্তানের এক জননীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ভিটিগাঁও গ্রামের সদাগর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর নিহতের পরিবার এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলে স্বামী মোমেন মিয়ার বিরুদ্ধে পরকীয়া ও দীর্ঘদিনের নির্যাতনের অভিযোগ করেছে।নিহত সুবর্ণা নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার ওলিপুরা ইউনিয়নের নবীয়াবাজ গ্রামের আব্দুল রউফ ভূঁইয়া ও শিল্পী বেগমের মেয়ে। প্রায় নয় বছর আগে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয় কুলিয়ারচর উপজেলার ভিটিগাঁও গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে মোমেন মিয়া (২৮)-এর সঙ্গে। পেশায় সিএনজিচালক মোমেনের সঙ্গে তাদের সংসারে সিন্থিয়া (৫) ও ছয় মাস বয়সী সারা মনি নামে দুই কন্যাসন্তান রয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর প্রথম কয়েক বছর সংসার স্বাভাবিকভাবে চললেও পরে স্বামীর কথিত পরকীয়াকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। প্রায় ছয় মাস আগে নির্যাতনের অভিযোগে সুবর্ণা বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে চার দিন আগে আর নির্যাতন করবেন না—এমন আশ্বাস দিয়ে মোমেন মিয়া তাকে আবার নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন।
নিহতের পরিবারের দাবি, বাড়িতে ফেরার পরও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং পরকীয়ার বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুললে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নতুন করে বিরোধ শুরু হয়। শুক্রবার সকালেও সুবর্ণাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। পরে দুপুরে ঘরের ভেতরে ওড়না দিয়ে সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।
নিহতের মা শিল্পী বেগম বলেন, “আমার মেয়ের সংসার শুরুতে ভালো ছিল। কিন্তু গত প্রায় দুই বছর ধরে স্বামীর পরকীয়ার কারণে তাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো। ছয় মাস আগে সে আমাদের বাড়িতে চলে আসে। চার দিন আগে মোমেন আর নির্যাতন করবে না বলে কথা দিয়ে তাকে নিয়ে যায়। কিন্তু আজ সকালে আবারও মারধর করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
নিহতের বাবা আব্দুল রউফ ভূঁইয়া বলেন, “এটি আত্মহত্যা নয়, দীর্ঘদিনের নির্যাতনের পরিণতি। মোমেনকে আমি নিজের সন্তানের মতো দেখেছি। সংসার গড়ে তুলতে সিএনজি গ্যারেজ করার জন্য টাকা দিয়েছি, পরে সিএনজি কেনার ক্ষেত্রেও আর্থিক সহযোগিতা করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার মেয়েকেই প্রাণ হারাতে হলো। আমি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।”
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। নিহতের বাবা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য যে, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে স্বামীর বিরুদ্ধে পরকীয়া ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হলেও, এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
