মোঃ নাদিরুজ্জামান আজমল

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষার একটি দৃশ্য যেন একই সঙ্গে বিস্ময়, বাস্তবতা এবং প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। উপজেলার দুটি পৃথক কেন্দ্রে ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বীমা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন মাত্র দুইজন পরীক্ষার্থী- প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে। অথচ শিক্ষা বোর্ডের বিধি অনুসারে এই দুই পরীক্ষার্থীকে ঘিরেই দায়িত্ব পালন করেছেন মোট ৩৪ জন কর্মকর্তা, কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাড়াইল মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে হাজী মোমতাজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী রাকিব মিয়া এবং তাড়াইল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিয় রঞ্জন বর্মন একমাত্র পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নেন।কিন্তু পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেলেও কমেনি দায়িত্বের পরিধি। প্রতিটি কেন্দ্রে বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী হল সুপার, সহকারী হল সুপার, কক্ষ পরিদর্শক, সহায়ক কর্মচারী, পুলিশ সদস্য, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রয়োজনীয় জনবল মোতায়েন করা হয়। ফলে দুই পরীক্ষার্থীর জন্য দুই কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন মোট ৩৪ জন।পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্র দুটি পরিদর্শন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিসান আলী। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষা বোর্ডের বিধিমালা অনুযায়ী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কম হলেও কেন্দ্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম শিথিল করার সুযোগ নেই। নকলমুক্ত, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতেই নির্ধারিত জনবল নিয়োজিত রাখা বাধ্যতামূলক। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। একজন পরীক্ষার্থীর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা এবং বিপুল জনবল নিয়োজিত রাখার বিষয়টি যেমন বোর্ডের বিধিবদ্ধ বাস্তবতা, তেমনি রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যবহার, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তাড়াইলের এই ঘটনা কেবল একটি ব্যতিক্রমী পরীক্ষার পরিসংখ্যান নয়; এটি শিক্ষা প্রশাসনের কঠোর বিধিবিধান, বাস্তবতার সীমাবদ্ধতা এবং জনসম্পদ ব্যবস্থাপনার একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিচ্ছবি হয়ে সামনে এসেছে।
