কটিয়াদীতে পেশিশক্তির জোরে জমি দখল, মালিকপক্ষকে খুনের হুমকি ভূমিদস্যুদের

এম এ কুদ্দুস, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার গচিহাটা এলাকায় বাদী সাজ্জাদ হোসেন, বিবাদী রতন ভূইয়া পূর্বশত্রুতা ও জমি দখলের ধারাবাহিক চক্রান্তের জেরে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ২০/৩০ জনের একদল সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সাজ্জাদ পরিবারের পৈতৃক ও রেকর্ডীয় মালিকানাধীন মোট ১৬৫ শতাংশ জমি জোরপূর্বক বেদখল করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।

শুধু জমি দখলই নয়, জমিতে বাধা দিতে গেলে মালিকপক্ষকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে খুনের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।‎ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিরোধপূর্ণ নালিশা সম্পত্তিটি সিএস ও এসএ জরিপ থেকে শুরু করে সর্বশেষ আরএস রেকর্ড পর্যন্ত তাঁদের পূর্বপুরুষ ও বর্তমান ওয়ারিশদের নামে আইনগতভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।আতখলা মৌজায় সিএস খতিয়ান নং- ১৯৪, ১৮৪, ২৩৯, ৩১৮ ও ৬৪ এবং পরবর্তীতে এসএ খতিয়ান নং- ৮৬, ১৯৩, ২২১ ও ১৮৩ মূলে সম্পত্তিটির মূল মালিক ছিলেন বাদীপক্ষের দাদা আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়া। সর্বশেষ আরএস জরিপে ১১০ নং খতিয়ানে সম্পত্তিটি গোলাপ মিয়া ও তাঁর ভাই মোঃ কামাল হোসেন ভূঞার নামে চূড়ান্তভাবে রেকর্ডভুক্ত হয়।

এরপর থেকে মালিকপক্ষ সাজ্জাদ হোসেন, পিতাঃগোলাপ মিয়া নিয়মিত নামজারি (জমাখারিজ) সম্পন্ন করে হাল সন পর্যন্ত সরকারের ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন।‎ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাঁদের প্রতিবেশী কিছু চিহ্নিত ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক দীর্ঘদিন ধরে এই নিরীহ পরিবারের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে আসছিল।

তারা বিভিন্ন মহলে মিথ্যা প্রচার করে আসছিল যে এই জমি তাদের। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন ২০/৩০ জনের একটি ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী দা, লাঠি, হলঙ্গা, বল্লম এবং লোহার রডের মতো মারাত্মক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নালিশা জমিতে অস্ত্রের মহড়া দেয়।

তারা বেআইনিভাবে ২নং তফসিলভুক্ত ভূমিতে অনধিকার প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা চালায়।‎এ সময় জমির প্রকৃত মালিক ও স্থানীয় সাক্ষীরা এগিয়ে গিয়ে তাদের বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা মারমুখী হয়ে ওঠে এবং তাঁদের ওপর আক্রমণের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ভূমিদস্যুরা চিৎকার করে হুমকি দিয়ে বলে, “এই জমি আমাদের। যদি আর কোনোদিন এই জমিতে আসিস বা ভূমির মালিকানা দাবি করিস, তবে তোদের খুন করে লাশ গুম করে ফেলব।”‎উপস্থিত মালিকপক্ষ ও নিরীহ সাধারণ মানুষ অস্ত্রের মুখে প্রাণের ভয়ে পিছু হটতে বাধ্য হলে, এই সুযোগে সন্ত্রাসী চক্রটি ১, ৩ ও ৪নং তফসিলভুক্ত নালিশা জমি সম্পূর্ণ জোরপূর্বক ও বেআইনিভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।‎এই নগ্ন ভূমিদস্যুতার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি পৈতৃক সম্পত্তি ফেরত পেতে এবং নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তাঁরা এই ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।‎২৪শে জুলাই শুক্রবার উভয়পক্ষের সম্মতিতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বিশাল শালিসান দরবার অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত শালিসানে উভয় পক্ষকে জমিজমা নিজেদের প্রমানের স্বাথে দরবারে দলিলাদি নিয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল।কিন্তু বিবাদি পক্ষ শালিসিতে অনুপস্থিত থাকায় বাদী পক্ষের প্রয়োজনীয় কগজ পত্র উপস্াপন করা হয়।এতে বাদী পক্ষের দলিলাদি সঠিক বলে প্রমানিত হয়।শালিসান দরবারে বিভিন্ন ইউনিয়নের মেম্বার, চেয়ারম্যান,কটিয়াদীতে পেশিশক্তির জোরে জমি দখল, মালিকপক্ষকে খুনের হুমকি ভূমিদস্যুরা ব্যাক্তিবগ উপস্থিত ছিলেন।‎এব্যাপারে বিবাদী পক্ষের রতন ভূঞাকে মোবাইল ফোনে তার অভিব্যক্তি জানতে চাইলে-পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *