সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রাতেও দেশজুড়ে লোডশেডিং

এটিভি অনলাইন ডেস্ক

দেশে প্রথমবারের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৭ হাজার মেগাওয়াটের ঘর অতিক্রম করেছে। তবে রেকর্ড উৎপাদনের রাতেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাননি সাধারণ মানুষ।‎‎

বুধবার (২০ মে) রাত ৯টার দিকে দেশে সর্বোচ্চ প্রায় ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোডশেডিংয়ের পরিমাণও বেড়ে যায়। মধ্যরাত নাগাদ সারাদেশে লোডশেডিং ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।‎‎

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)-এর ঘণ্টাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, রাত ৯টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার ৮১০ মেগাওয়াট। উৎপাদন কিছুটা বেশি হলেও সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় ক্ষতির কারণে গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হয় প্রায় ১৬ হাজার ৪১৮ মেগাওয়াট। ফলে ওই সময়েও কয়েকশ মেগাওয়াট ঘাটতি থেকে যায়।‎‎এর আগে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড ছিল ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট, যা গত বছরের জুলাই মাসে হয়েছিল।

‎‎বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। তবে জ্বালানি সরবরাহ, কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে প্রকৃত উৎপাদন ওঠানামা করে। ‎‎জ্বালানিভিত্তিক উৎপাদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রেকর্ড উৎপাদনের বড় অংশ এসেছে কয়লা ও গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে। এর মধ্যে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াটের বেশি এবং গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। এছাড়া তরল জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্র থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

‎‎তবে উৎপাদন বাড়লেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ ঘাটতি বাড়তে থাকে। পিজিসিবির তথ্যে দেখা যায়, রাত ১০টায় লোডশেডিং ছিল প্রায় ৪৪৫ মেগাওয়াট, যা রাত ১১টায় বেড়ে ৮২৩ মেগাওয়াটে পৌঁছে। পরে রাত ১২টায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় লোডশেডিং দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৪০৩ মেগাওয়াটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *