মোঃ নাদিরুজ্জামান আজমল

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল অষ্টগ্রামে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। গত ২৪ ঘণ্টায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ঘন ঘন বিদ্যুতের আসা-যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, শিক্ষা কার্যক্রম, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেবা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিট থেকে বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ১২ বার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন উপজেলার বাসিন্দারা।তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিট থেকে রাত ৮টা ১০ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। পরে রাত ৮টা ১০ মিনিটে বিদ্যুৎ এলেও রাত ৮টা ৩০ মিনিটে আবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। এরপর রাত ২টার দিকে বিদ্যুৎ এলেও রাত ২টা ৩৪ মিনিটে আবার চলে যায়। বুধবার সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে বিদ্যুৎ ফিরে এলেও মাত্র ১৫ মিনিট পর সকাল ১০টা ৪৩ মিনিটে আবার বিদ্যুৎ চলে যায়। পরে দুপুর ১টা ১৭ মিনিটে সংযোগ ফিরে এসে দুপুর ২টা ৩ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এরপর আবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে আসে। বিকেল ৫টা ২২ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকলেও এরপর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরো এলাকা অন্ধকারে ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ২০ ঘণ্টা ১২ মিনিট লোডশেডিং হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ। প্রচণ্ড গরমে অনেক এলাকায় শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে পানিবাহিত রোগ ও চর্মরোগ বৃদ্ধির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।লোডশেডিংয়ের কারণে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদ ও অনলাইনভিত্তিক সেবা কার্যক্রমেও চরম বিঘ্ন ঘটছে। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে মিঠামইন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. ফাখরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন উপজেলায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ২১ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে মাত্র ৭ মেগাওয়াট বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া কিশোরগঞ্জ থেকে আসা মূল লাইনে প্রায়ই প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।
তিনি বলেন, “হঠাৎ মূল লাইনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় অতিরিক্ত লোডশেডিং হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।”স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
