বিজয় কর রতন, মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘন ঘন লোডশেডিং ও বিদ্যুতের আসা-যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এতে সাধারণ গ্রাহকদের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি সেবা কার্যক্রমেও ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিট থেকে বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ১২ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করেছে।
তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিট থেকে রাত ৮টা ১০ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। পরে রাত ৮টা ১০ মিনিটে বিদ্যুৎ এলেও ৮টা ৩০ মিনিটে আবার চলে যায়। এরপর রাত ২টার দিকে বিদ্যুৎ আসে, কিন্তু ২টা ৩৪ মিনিটে আবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। বুধবার সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে বিদ্যুৎ এলেও ১০টা ৪৩ মিনিটে আবার চলে যায়। পরে দুপুর ১টা ১৭ মিনিটে বিদ্যুৎ ফিরে আসে এবং ২টা ৩ মিনিট পর্যন্ত থাকে। এরপর আবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে বিদ্যুৎ আসে। বিকেল ৫টা ২২ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকলেও এরপর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না।
স্থানীয়দের দাবি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ২০ ঘণ্টা ১২ মিনিট লোডশেডিং হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে এ পরিস্থিতিতে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় পানিবাহিত রোগ ও শিশুদের চর্মরোগ বৃদ্ধির খবরও পাওয়া গেছে।
লোডশেডিংয়ের কারণে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটছে। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবাগ্রহীতারা।
এ বিষয়ে মিঠামইন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. ফাখরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মিঠামইনে বিদ্যুতের চাহিদা ২১ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে মাত্র ৭ মেগাওয়াট বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া কিশোরগঞ্জ থেকে আসা মূল লাইনে প্রায়ই প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেওয়ায় লোডশেডিং বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, “হঠাৎ মূল লাইনে সমস্যা দেখা দেওয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় অতিরিক্ত লোডশেডিং হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।”
