নিজস্ব প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের দরগা হাটি জামে মসজিদে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টার মধ্যেই একপক্ষের উসকানিতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মিয়া–এর সমর্থক বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত ৬ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দরগা হাটি জামে মসজিদটি পরিচালিত হয়ে আসছিল বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মিয়া (৭৫)–এর তত্ত্বাবধানে। তিনি এলাকার প্রবীণ ও সম্মানিত ব্যক্তি এবং আদমপুর ইউনিয়নের ৩ বারের বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
মসজিদের উন্নয়ন ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সম্প্রতি একদল লোক, যাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মাসুক মিয়া (৫০), জোরপূর্বক মসজিদের কমিটি দখল ও নেতৃত্ব বদলের চেষ্টা করেন।
বুধবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ওই পক্ষ হঠাৎ মসজিদ প্রাঙ্গণে এসে বাকবিতণ্ডা শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমির হোসেন মিয়া–এর অনুসারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে নারীসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন,
সালমা (৩২), আলী আজগর (৩৫), নাজমা বেগম (৪২), মোঃ আলী (৪৮), মানিক মিয়া (৫২), ফেরদৌস মিয়া (৪৫), শাহিন মিয়া (৩০), সায়েরা (৫০), ফাতেমা (১৮), তানিয়া (১৯), আলম (২৫), আলমাছ (৪০), রশিদ (৩৩), মনির হোসেন (৩০), জামির (৩০), ইয়াসমিন (৩৮), আক্কাস (৫০), মজিবুর (৫৫), কবির মিয়া (২৯), বাচ্চু মিয়া (৫৫), কামাল হোসেন (৪৪), সরাজ (৫৫), রশিদুর (১৫), আহসান (১৯), হৃদয় (২২), আক্কাছ মিয়া (৪০) ও সেলিম (২৬)।
অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষে আহত ২৭ জন চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে ৬ জনকে গুরুতর অবস্থায় কিশোরগঞ্জে রেফার্ড করা হয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মিয়া বলেন
আমি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছি। এখন জীবনের শেষ বয়সে মসজিদের শান্তি রক্ষায় কাজ করছিলাম। কিন্তু কিছু কুচক্রী ব্যক্তি মসজিদকে ব্যক্তিগত আধিপত্যের জায়গা বানাতে চায়। আমি সবসময় শান্তির পক্ষে ছিলাম, আছি এবং থাকব।
অষ্টগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
