খুলনার ৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস, প্রশ্নের মুখে শিক্ষার মান

এটিভি অনলাইন ডেস্ক

২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীন খুলনা জেলার ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। বোর্ডের অধীন মোট ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান, শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে অনুমোদিত ফলাফলসংক্রান্ত তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, খুলনার শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ডুমুরিয়া মডেল মহিলা কলেজ, ইন্ডিপেনডেন্ট আইডিয়াল কলেজ, পাইকগাছার কপিলমুনি সহচরী বিদ্যা মন্দির, কয়রার শাকবাড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রূপসার কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস কলেজ এবং খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে যথাক্রমে ৩, ১১, ৩, ২৯, ১ ও ১২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও একজনও পাস করতে পারেননি।

এর মধ্যে সবচেয়ে হতাশাজনক ফল করেছে কয়রার শাকবাড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ এস এক আকবর হোসেন বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে এবার ২৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। তারা লেখাপড়ায় চরম অমনোযোগী ছিল এবং নিয়মিত কলেজে আসত না। প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পরও অভিভাবকদের অনুরোধে সবাইকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে এমন ফল হয়েছে।

কয়রা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকশানা পারভীন বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, পাইকগাছার কপিলমুনি সহচরী বিদ্যা মন্দির থেকেও এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তিনজনের কেউ পাস করতে পারেননি। গত বছরও প্রতিষ্ঠানটি থেকে পাঁচজন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউ উত্তীর্ণ হননি। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার মণ্ডল। এর পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি খুলনা জেলা প্রশাসক।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন বলেন, ২০২৫ সালে শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠান গুলোর প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের বক্তব্যও শোনা হয়েছে। কারণগুলো বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, এ বছরও শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। প্রয়োজনে এসব প্রতিষ্ঠানের অধিভুক্তি নবায়ন বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

এদিকে, শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ইতিবাচক ফল করেছে খুলনার খালিশপুরের নেভি অ্যাঙ্করেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৬১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন। এ ছাড়া যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীন শতভাগ পাস করা অন্য দুটি প্রতিষ্ঠান হলো ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ এবং চুয়াডাঙ্গার ব্রাইট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পরীক্ষা-পূর্ব প্রস্তুতি এবং শিক্ষার মান নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে খারাপ ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে কার্যকর তদারকি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *