স্টাফ রিপোর্টার কিশোরগঞ্জ থেকে:

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যাঁদের স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাহত হচ্ছে, তাঁদের জীবনকে আরও গতিশীল করতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ। অসহায় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে বিনামূল্যে হুইল চেয়ার বিতরণের মাধ্যমে তাঁদের চলাচল সহজ করা এবং স্বনির্ভর জীবনযাপনের পথ সুগম করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপকারভোগীদের হাতে হুইল চেয়ার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান।
এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহমুদা রহমান, পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জেলা বিএনপির নেতারা এবং স্থানীয় অসহায় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
হুইল চেয়ার পেয়ে আবেগাপ্লুত উপকারভোগী হৃদয় বলেন, “চলাফেরা করতে আমাকে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হতো। একটি হুইল চেয়ার আমার খুবই প্রয়োজন ছিল। জেলা পরিষদ বিনামূল্যে সেটি দেওয়ায় আমি অনেক উপকৃত হয়েছি। এখন আগের তুলনায় সহজে চলাফেরা করতে পারব। এমন মানবিক উদ্যোগের জন্য জেলা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”
আরেক উপকারভোগী মারুফা আক্তার বলেন, “অভাবের কারণে নিজের টাকায় হুইল চেয়ার কেনার সামর্থ্য ছিল না। প্রতিদিনের চলাফেরায় অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হতো। জেলা পরিষদ থেকে হুইল চেয়ার পেয়ে আমার অনেক সুবিধা হবে। অসহায় মানুষের কষ্ট লাঘবে সমাজের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও এগিয়ে আসবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান বলেন, সমাজের অবহেলিত, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানো কেবল মানবিক দায়বদ্ধতা নয়, এটি আমাদের সামাজিক দায়িত্বও। প্রতিবন্ধিতা কোনো অভিশাপ নয়; প্রয়োজনীয় সুযোগ, সহায়তা ও উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও সমাজের মূল স্রোতে যুক্ত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।
তিনি বলেন, বিনামূল্যে হুইল চেয়ার বিতরণের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের সীমাবদ্ধতা কমানো, তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করে তোলা। এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি তাঁদের সামাজিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান আরও বলেন, কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ মানবকল্যাণ ও এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে। সমাজের পিছিয়ে পড়া ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, মর্যাদা এবং জীবনমান উন্নয়নে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
