অনলাইন ডেস্ক

সার সংগ্রহ, মজুদ ও বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং এ বিষয়ে প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল রোববার রাজধানীর গাবতলীতে ৬ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি নতুন সার গুদাম উদ্বোধন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। কৃষিমন্ত্রী বলেন, সময়মতো কৃষকের হাতে প্রয়োজনীয় সার পৌঁছে দিতে না পারলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে। তাই সার সরবরাহ ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।
সার ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) প্রায় ২০০টি গুদামের দৈনিক সার প্রবেশ ও বিতরণের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করতে হবে। এর ফলে তাৎক্ষণিকভাবে মজুদ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। অতিরিক্ত বা অপরিকল্পিত সার ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা ও অম্লতার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার দেশব্যাপী ‘মা মাটি উন্নয়ন কর্মসূচি’ হাতে নিয়েছে। মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করে সুষম মাত্রায় সার ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যেমন সারের অপচয় কমবে, অন্যদিকে কম সার প্রয়োগ করেও অধিক ফলন পাওয়া সম্ভব হবে।
বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, কৃষি সচিব মো. সেলিম খান এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম। এর আগে মন্ত্রী ফলক উন্মোচন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই সার গুদামের উদ্বোধন করেন।
পরে সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ৪৫তম বিসিএস মৎস্য ও পশুসম্পদ ক্যাডারের নবযোগদানকৃত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, নবীন কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজস্ব মেধা ও দক্ষতার সর্বোচ্চ প্রয়োগ করতে হবে। তিনি বলেন, নবীন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত ও দায়িত্বশীলতার ওপর দেশের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে। মন্ত্রী বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার কর্মজীবন প্রায় ২৫ থেকে ৩২ বছর। তাই নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে তাদের দীর্ঘ সময় কাজ করার সুযোগ রয়েছে। দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে আগামী প্রজন্মের জন্য আরও সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের পাশাপাশি উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণও নিরাপদ করতে হবে। বিশেষ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নবীন কর্মকর্তাদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। খাদ্যের মাধ্যমে অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ মানবদেহে প্রবেশ করায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের (এএমআর) ঝুঁকি বাড়ছে। নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, জীবনের প্রতিটি ধাপে সাফল্যের জন্য সংগ্রাম, অধ্যবসায় ও নিষ্ঠার প্রয়োজন। কর্মক্ষেত্রেও কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে হবে এবং নৈতিকতার সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রত্যাশা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশপ্রেমকে হৃদয়ে ধারণ করে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ চেতনাকে ধারণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনে আইন ও নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান জানান তিনি।
এসময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দসহ মৎস্য ক্যাডারের নবযোগদানকৃত ২৫ জন এবং পশুসম্পদ ক্যাডারের ২১ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
