মিঠামইনে স্কুলের জমি কেটে পুকুর কাণ্ডের অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে বাঁচাতে তৎপর প্রাথমিক শিক্ষা অফিস

মিঠামইন উপজেলা সংবাদদাতা

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমির মাটি কেটে পুকুর খনন ও মাটি আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত হয়েছে। অথচ উল্টো অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনকে রক্ষায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস তৎপর বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ‎‎

জানা গেছে, হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে আছেন মো. জাকির হোসেন। তিনি হোসেনপুর গ্রামের রুহুল আমিন মাস্টারের ছেলে।‎‎ভূমি রেকর্ড অনুযায়ী, হোসেনপুর মৌজার এসএ খতিয়ান নং-১০, দাগ নং-২০১৯ এর ৪৮ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের নামে রেকর্ডভুক্ত। অথচ প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন ওই জমির মাটি কেটে পুকুর খনন করেন এবং উত্তোলিত মাটি নিজের বসতবাড়িতে নিয়ে যান। ‎‎বিষয়টি এলাকাবাসীর নজরে এলে প্রধান শিক্ষক প্রথমে ভুল স্বীকার করে পুকুর ভরাটের প্রতিশ্রুতি দেন।

তবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি বলে জমিদাতা ও স্থানীয়রা জানান, এ বিষয়ে জমিদাতা মো. আবু হানিফ ভূঁইয়া প্রথমে গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে মিঠামইন উপজেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।কিন্ত শিক্ষা অফিস তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় তিনি ১৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর দ্বিতীয় দফা অভিযোগ করেন। কিন্তু অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কেউ কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারীর দাবি। বরং অভিযোগপত্র দুইটিই ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিলো।‎‎

সম্প্রতি এই অভিযোগের ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন নড়েচড়ে বসে।পরে মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে নির্দেশ দেন। ‎এর পরিপেক্ষিতে গত ১০ জুন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজ মিয়া হোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন এবং ওই সময় সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়। হোসেনপুর গ্রামের আওয়াল মিয়া( ৬৫) এই প্রতিবেদককে জানান শিক্ষা কর্মকর্তা তদন্ত করতে এসে আমাকে পুকুরে নামতে বলেন। আমি তার কথামতো পুকুরে নেমে ঘুরে ঘুরে মাটি কাটার গভীরতা দেখাই। কোথাও বুক পর্যন্ত মাটি কেটেছে আবার কোথাও গলা পর্যন্ত মাটি কেটে নিয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে ৬থেকে ৭ লাখ টাকার মাটি কাটা হয়েছে। হানিফ ভূঁইয়া বলেন এতকিছুর পরও শিক্ষা অফিস এখনো অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। ‎‎

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুরু থেকেই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। ১০ মাস পর বাধ্য হয়ে কেবল লোক দেখানোর জন্যই তদন্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ‘অসৎ উদ্দেশ্যের- কারণেই অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক পার পেয়ে যাচ্ছেন বলে সচেতন মহলের ধারণা। যেহেতু প্রধান শিক্ষক কর্তৃক মাটি লুট করার অপরাধ সংঘঠিত হয়েছে অথচ শিক্ষা কর্মকর্তা এর বিরুদ্ধে বাদি হয়ে মামলা করার কথা কিন্তু তা না করে অপরাধীর পক্ষ নিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে ওঠায় এই নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ‎‎এ কারণে তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।‎‎

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মাহফুজ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত এখনো চলমান আছে।অভিযুক্ত শিক্ষককে বাঁচাতে তৎপরের বিষয়টি সত্য না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *