আহমেদ সিফাত, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে সরকারি একটি কম্পিউটার রহস্যজনকভাবে চুরির ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
তালা অক্ষত, কোথাও ভাঙচুরের চিহ্ন নেই, অন্য কোনো মালামালও খোয়া যায়নি-এমন পরিস্থিতিতে শুধু একটি সরকারি কম্পিউটার উধাও হয়ে যাওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এরই মধ্যে চুরির ঘটনার পরদিন সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাবলী শবনমের বদলির আদেশ জারি হওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা যায়, বাবলী শবনম গত ২৮ এপ্রিল কুলিয়ারচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন। তবে যোগদানের পর বড় একটা সময় অসুস্থতার কারণে তিনি নিয়মিত অফিসে উপস্থিত ছিলেন না। গত ১৯ মে জাতীয় ভূমি মেলা উপলক্ষে যোগদানের প্রায় তিন সপ্তাহ পর প্রথমবার তাকে জনসম্মুখে দেখা যায়। আড়াই মাসের সংক্ষিপ্ত দায়িত্বকাল শেষ হওয়ার আগেই রহস্যজনক চুরির ঘটনা এবং পরদিনই বদলির আদেশ দুই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা চলছে।
একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, চুরির ঘটনার আগে থেকেই ভূমি কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চলছিল। কার্যালয়ের কানুনগো আবুল কাসেম ও সার্ভেয়ার হযরত আলী দ্বন্দ্বের বিষয়টি স্বীকার করলেও এর কারণ কিংবা চুরির ঘটনার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এর মধ্যেই গত ১১ জুলাই শনিবার দিবাগত রাতে ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্প’-এর একটি সরকারি কম্পিউটার রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের দরজা-জানালার কোনো তালা ভাঙা হয়নি এবং ভেতরে অন্য কোনো মালামালেও হাত দেওয়া হয়নি। ফলে এটি সাধারণ চুরির ঘটনা, নাকি কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা নথি সরিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে কম্পিউটারটি সরানো হয়েছে এমন প্রশ্নও উঠেছে।
ঘটনার পর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কৃষ্ণা সিকিউরিটি এজেন্সির প্রহরী মো. জাকির হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন বলেন, “ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো বিষয়ে নিশ্চিতভাবে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
”কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার বলেন, “চুরির বিষয়টি আমি অবগত। এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বিষয়ে আমার জানা নেই।”
এ বিষয়ে সদ্য বিদায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাবলী শবনমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “অফিসের একজন স্টাফ আমার সঙ্গে অফিসিয়াল আচরণ করেননি। তবে অন্য কারও সঙ্গে আমার কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না। চুরির ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে। আমার বদলির সঙ্গে এ ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।”রহস্যজনক এই কম্পিউটার চুরির ঘটনা এবং তার পরদিনই এসিল্যান্ডের বদলি দুই বিষয় একসঙ্গে ঘটায় প্রশাসনিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে চুরির সঙ্গে বদলির কোনো সম্পর্ক রয়েছে এমন দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
কুলিয়ারচরের সচেতন মহল মনে করছে, ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা জরুরি। একই সঙ্গে সরকারি দপ্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হলে এ নিয়ে সৃষ্টি হওয়া নানা জল্পনা-কল্পনারও অবসান হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
