দুই বছর আগে ‘গুম-খুন’ হওয়া যুবক মিলল জীবিত, পাওনা টাকার বিরোধে ঠিকাদারকে ফাঁসানোর অভিযোগ

আহমেদ সিফাত কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

দুই বছর আগে যাকে অপহরণের পর হত্যা করে মরদেহ গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল, সেই যুবককে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ।

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের এ ঘটনায় নতুন মোড় নেওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে পাওনা টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গুম-হত্যার নাটক সাজানোর অভিযোগও সামনে এসেছে।‎

জানা গেছে, শেরপুর জেলার বাসিন্দা মোস্তফা কামাল (২৮) কুলিয়ারচরে তার নানাবাড়িতে বসবাস করতেন। প্রায় দুই বছর আগে তিনি হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। দীর্ঘদিন তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, তাকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে এবং মরদেহ গুম করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার মা মনোয়ারা বেগম আদালতে মামলা দায়ের করেন।

‎মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বাজিতপুরের ঠিকাদার জামান মিয়াকে। অভিযোগ রয়েছে, মোস্তফা কামালের সঙ্গে জামান মিয়ার কয়েক লাখ টাকার আর্থিক লেনদেন ছিল। সেই সূত্র ধরেই তাকে মামলায় জড়ানো হয়। মামলার পর জামান মিয়াকে গ্রেফতার করা হলে তিনি প্রায় চার মাস কারাভোগ করেন। ‎পরে মামলার তদন্তে নেমে পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়।

বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের একপর্যায়ে গত ৯ জুলাই দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে গাজীপুরের গাছা থানার ডেগেরচালা এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ।‎

অভিযানে সেখানে মোস্তফা কামালকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ জানতে পারে, তিনি সেখানে রাজমিস্ত্রির কাজ করছিলেন। এ সময় আরও জানা যায়, তিনি বিয়ে করে নতুন সংসারও গড়ে তুলেছেন।‎

তদন্তে উঠে এসেছে, মোস্তফা কামালের আত্মগোপনের বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যরা জানতেন। তবে গত দুই বছরে তারা পুলিশকে এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি।‎

এ ঘটনায় দীর্ঘদিন কারাভোগ করা ঠিকাদার জামান মিয়া বলেন, “আমি কোনো অপরাধ না করেও চার মাস জেল খেটেছি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

“‎অন্যদিকে, মোস্তফা কামাল কিংবা তার পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।‎

কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন জানিয়েছেন, ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।‎

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একটি নিখোঁজের ঘটনা কীভাবে গুম ও হত্যার অভিযোগে রূপ নেয় এবং সেই মামলায় একজন ব্যক্তিকে চার মাস কারাভোগ করতে হয় এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

একই সঙ্গে একটি মিথ্যা অভিযোগের কারণে একজন নির্দোষ মানুষের জীবনের মূল্যবান সময় হারানোর ক্ষতিপূরণ কীভাবে হবে, সেই প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মধ্যে।‎আইনি প্রক্রিয়া এখন চলমান। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পাশাপাশি মিথ্যা তথ্য দিয়ে কাউকে হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর এখন সবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *