সাময়িক সহায়তা নয়, হাওরে চাই স্থায়ী কৃষি সুরক্ষা ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য সাময়িক সরকারি প্রণোদনার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী কৃষি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু। তিনি বলেন, হাওরাঞ্চলের কৃষকরা প্রতি বছরই নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছেন, ফলে ক্ষণস্থায়ী সহায়তা দিয়ে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।‎‎সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তব্যে চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু বলেন, হাওরাঞ্চলের প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষ একমাত্র বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল। এক একর জমিতে বোরো চাষ করতে একজন কৃষকের খরচ হয় প্রায় ৪০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। ক্ষুদ্র কৃষক থেকে শুরু করে বড় চাষি—সবার জীবন-জীবিকা এই একটি ফসলকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে।‎‎তিনি আরও বলেন, এই বোরো ফসল ঘরে তুলেই কৃষকরা সারা বছরের ভরণপোষণ, সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও অন্যান্য পারিবারিক ব্যয় নির্বাহ করেন। পরবর্তী মৌসুমের চাষাবাদের জন্য অনেক কৃষককে ব্যাংক, এনজিও কিংবা মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়। কিন্তু অকাল বন্যা, উজানের ঢল বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হলে তাদের জীবন-জীবিকায় নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা।‎‎চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু বলেন, “সরকার কৃষকদের জন্য যে প্রণোদনা ও সহায়তা দিচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কৃষকের দুরবস্থায় সরকারের পাশে দাঁড়ানো একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। তবে বাস্তবতা হলো—এই সাময়িক সহায়তা দিয়ে কৃষকের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব নয়।”‎‎তিনি বলেন, “প্রতি বছরই অকাল বন্যা, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত কিংবা উজানের পানির ঢলে হাওরের ফসল ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। এতে কৃষকের সারা বছরের পরিশ্রম মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায়। তাই এখন সময় এসেছে স্থায়ী সমাধানের দিকে যাওয়ার।”‎‎হাওরাঞ্চলের কৃষকদের পক্ষ থেকে দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা শ্রমজীবী মানুষ, আমরা পরিশ্রম করতে জানি। আমরা শুধু প্রণোদনা চাই না; চাই হাওরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপন, আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনা, টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং বিজ্ঞানভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন। এমন অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যাতে কৃষকরা নির্বিঘ্নে চাষাবাদ করতে পারেন এবং দুর্যোগের ভয় ছাড়াই ফসল নিরাপদে ঘরে তুলতে পারেন।”‎‎তিনি আরও বলেন, হাওরের অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং কৃষকের রক্ত-ঘামে গড়া পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে স্থায়ী কৃষি সুরক্ষা ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।‎‎স্থানীয় কৃষকরাও চেয়ারম্যানের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে বলেন, হাওরাঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে কৃষকের জীবন-জীবিকা নিরাপদ হবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *