ভারত থেকে ছেড়ে দেওয়া পানির চাপে অষ্টগ্রামে গজিয়া খালে তীব্র ভাঙন, আতঙ্কে এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিনিধি

‎না, এটা কোনো সিনেমার দৃশ্য নয় কিংবা নাটকের কাল্পনিক কোনো ঘটনা নয়—এটি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার বাস্তব চিত্র। চোখের সামনে মুহূর্তেই ধসে পড়ছে মাটির বিশাল অংশ, আর প্রবল স্রোতে তা নিমিষেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভয়াবহ এ ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।‎‎কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নের গজিয়া খালে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ধলেশ্বরী-মেঘনার সংযোগস্থল এই খালের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে বাঙ্গালপাড়া বাজার থেকে উছমানপুর পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্মিত সরকারি ভবন, বাঙ্গালপাড়া বাজার এবং খালপাড়ের অসংখ্য বসতভিটা।‎‎সরেজমিনে দেখা গেছে, খালের তীরজুড়ে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে মাটির বিশাল অংশ ভেঙে পড়ে প্রবল স্রোতের টানে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, গত দুই থেকে তিন দিনে প্রায় ১০০ হাত এলাকা ভেঙে গেছে।‎‎স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভারত থেকে ছেড়ে দেওয়া পানির অতিরিক্ত চাপে এবং বন্যার পানি নেমে যাওয়ার ফলে গজিয়া খালে স্রোতের চাপ বেড়ে গিয়ে ভয়াবহ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলেন, প্রতিবছর উজানের পানির চাপে হাওরাঞ্চলের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হলেও স্থায়ী প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না।‎‎এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই বাঙ্গালপাড়া বাজারের পূর্বাংশ, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন এবং শত শত পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।‎‎এদিকে বাজারের একমাত্র পণ্য ওঠানামার ঘাটসংলগ্ন সিঁড়ির নিচের মাটি ইতোমধ্যে সরে গেছে। স্থানীয়দের মতে, যেকোনো সময় সিঁড়িটি ধসে পড়তে পারে। এতে ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতা ও সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে।‎‎স্থানীয়রা দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।‎‎বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি গত বছরও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছিল। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, বাজার ও বসতভিটা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে এলাকাবাসী অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে।”‎‎এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মাহবুব আলম বলেন, “এ স্থানটি নিয়ে আগেও কাজ করা হয়েছে। এবারও সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *