মোঃ নাদিরুজ্জামান আজমল

দুবাই থেকে অবৈধভাবে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির মর্মান্তিক ঘটনায় ১৮ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তবে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার যুবক আব্দুল কাদির।আব্দুল কাদির অষ্টগ্রাম উপজেলার দেওঘর ইউনিয়নের পশ্চিম সাভিয়ানগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এক সন্তানের জনক। তার বেঁচে ফেরার খবর এলাকায় স্বস্তি ফিরিয়েছে, যদিও একই ঘটনায় বহু প্রাণহানিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো অঞ্চলে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উন্নত জীবনের আশায় দালাল চক্রের মাধ্যমে দুবাই হয়ে গ্রিস যাওয়ার চেষ্টা করেন কাদির। কিন্তু যাত্রাপথেই ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। প্রতিকূল আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের মধ্যে নৌকাটি ডুবে গেলে প্রাণ হারান অনেকেই। সেই মৃত্যুকূপ থেকে কাদির ফিরে আসেন জীবনের সঙ্গে লড়াই করে।আব্দুল কাদিরের মা আম্বিয়া খাতুন জানান, প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা খরচ করে আব্দুল্লাহপুর এলাকার এক দালালের মাধ্যমে তার ছেলেকে বিদেশে পাঠানো হয়। বড় নৌকায় যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে ছোট একটি নৌকায় তুলে দেওয়া হয়, যা পরে ডুবে যায়।তিনি বলেন, “অনেক মানুষ মারা গেছে। ঝড়ের মধ্যেও আমার ছেলে বেঁচে ফিরেছে এটাই আল্লাহর রহমত।”অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু বলেন, “এই ঘটনায় পুরো গ্রাম শোকাহত। তবে কাদিরের বেঁচে ফেরার খবর কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। সরকারের উচিত তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো।”অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিলভিয়া স্নিগ্ধা জানান, স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে কাদিরের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।এদিকে, এই ঘটনা আবারও মানবপাচারকারী দালাল চক্রের ভয়াবহতা সামনে নিয়ে এসেছে। অবৈধ পথে বিদেশ যাত্রার ঝুঁকি কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে, তার একটি নির্মম উদাহরণ এই নৌকাডুবি।বর্তমানে আব্দুল কাদিরের পরিবার শোক, আতঙ্ক এবং আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করে বিদেশে পাঠানোর পর তিনি কাজ না পেয়ে ফিরে আসায় পরিবারটি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।পরিবারের দাবি, কাদিরকে সুস্থ করে তোলা এবং তার জন্য একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হোক।
