আল মামুন খান, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ)

তাড়াইল–করিমগঞ্জ অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল একটি বিশেষভাবে আলোচিত অধ্যায়। সময়ের ব্যবধান পেরিয়েও এই পর্বটি আজও অনেকের কাছে “স্বর্ণযুগ” হিসেবে স্মরণীয়। কোনো একটি সময়কে এভাবে সম্মানজনকভাবে মনে রাখা নিছক আবেগ নয়; এর পেছনে থাকে বাস্তব অভিজ্ঞতা, দৃশ্যমান পরিবর্তন এবং মানুষের জীবনে ছাপ রেখে যাওয়া উন্নয়নের স্মৃতি।
এই সময়টির সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে একটি নাম—সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও তৎকালীন কিশোরগঞ্জ-৪ (বর্তমান কিশোরগঞ্জ-০৩) আসনের সংসদ সদস্য ড. এম. ওসমান ফারুক।
জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজ নির্বাচনী এলাকার সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখা বাংলাদেশের রাজনীতিতে খুব সাধারণ চিত্র নয়। কিন্তু ২০০১–২০০৬ সময়ে তাড়াইল–করিমগঞ্জে তার ব্যতিক্রম দেখা যায়। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক উদ্যোগ, মাদ্রাসা শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনা এবং জনপ্রতিনিধির দৃশ্যমান উপস্থিতি—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের একটি দৃঢ় পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
এই সময়ের উন্নয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল শিক্ষা খাত। নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, বিদ্যমান স্কুল-কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নকল প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান—সব মিলিয়ে এলাকায় একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে ওঠে। অনেক অভিভাবকই এ সময় সন্তানদের পড়াশোনার বিষয়ে নতুন করে আগ্রহী হন, যার প্রভাব পরবর্তী বছরগুলোতে শিক্ষার হার ও ফলাফলে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
শিক্ষার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নেও আসে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। গ্রাম থেকে উপজেলা সদরে যাতায়াত সহজ হওয়ায় কৃষক, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবন আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ হয়ে ওঠে। উন্নয়ন এখানে কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং মানুষের প্রতিদিনের অভিজ্ঞতায় তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা গিয়েছিল।
শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ড. এম. ওসমান ফারুকের সময়কাল ছিল নানা জাতীয় চ্যালেঞ্জ ও বিতর্কে পরিপূর্ণ। তবে তিনি এসব পরিস্থিতি দৃঢ়তা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে মোকাবিলা করেন। দুর্নীতির প্রশ্নে ছিল তার স্পষ্ট ও আপসহীন অবস্থান—“জিরো টলারেন্স” নীতি। পদ-বাণিজ্য, তদবির, টেন্ডারবাজিসহ যাবতীয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন, যা তার প্রশাসনিক পরিচ্ছন্নতার একটি শক্ত বার্তা দেয়।
তাড়াইল–করিমগঞ্জের মানুষ এই সময়টিকে “স্বর্ণযুগ” বলে অভিহিত করে মূলত এই কারণেই—উন্নয়ন ছিল ধারাবাহিক, নেতৃত্ব ছিল দৃশ্যমান, তৃণমূলের বাস্তব চাহিদার সঠিক মূল্যায়ন হয়েছিল এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে এলাকার প্রয়োজন সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছিল। এই সময় নিখুঁত ছিল কি না—তা নিয়ে ভিন্নমত থাকতেই পারে। তবে মানুষের স্মৃতিতে একটি সময় ইতিবাচকভাবে টিকে থাকাই প্রমাণ করে, সেই সময় তাদের জীবনে অর্থবহ পরিবর্তন এনেছিল।
আজ যখন তাড়াইল–করিমগঞ্জের উন্নয়ন নিয়ে নতুন করে আলোচনা হয়, তখন ২০০১–২০০৬ সময়কাল স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে। এটি শুধু অতীত স্মরণ নয়; বরং কেমন নেতৃত্ব ও উন্নয়ন হলে মানুষের আস্থা তৈরি হয়—তার একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবেও এই সময়কে বিবেচনা করা হয়।
আর আসন্ন নির্বাচনে জয়লাভ করে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম. ওসমান ফারুক ২০০১–২০০৬ সময়কালের অর্জনকেও ছাড়িয়ে আরও দক্ষতার সঙ্গে এলাকা তথা দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাবেন—এই আশায় আজ দিন গুনছে সর্বস্তরের জনগণ।
শরীফ আহমেদ আলেক
সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
তাড়াইল উপজেলা বিএনপি
সাবেক সফল সভাপতি
তাড়াইল উপজেলা যুবদল
