কিশোরগঞ্জে পিতাহত্যার আসামি নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার

আল-মামুন খান, নিজস্ব প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে পিতাকে হত্যার মামলার প্রধান আসামি ছেলে বাদল মিয়াকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

‎বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় র‌্যাব-১৪, সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মো. আশরাফুল কবির।

প্রেস ব্রিফিংয়ে কোম্পানি কমান্ডার  জানান, র‌্যাব-১৪, কিশোরগঞ্জ ও র‌্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জের যৌথ অভিযানে বুধবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার চট্টগ্রাম রোড থেকে পিতা হত্যার মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি বাদল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

‎গ্রেফতারকৃত মো. আব্দুল আওয়াল বাদল (৪২) করিমগঞ্জ উপজেলার নয়াকান্দি গ্রামের মৃত আ. মালেকের ছেলে।

র‌্যাব জানায়, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আসামী আব্দুল আওয়াল বাদল তার স্ত্রীকে প্রায় সময় শারীরিক নির্যাতন ও অত্যাচার করত। তার নির্যাতন ও অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আসামীর স্ত্রী অতিষ্ঠ হয়ে ঘটনার ৩ মাস আগে আসামীর স্ত্রী দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যায়।

‎পরে আসামী তার বাবা আব্দুল মালেককে মাদক সেবনের টাকা ও তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য চাপ দিতে থাকে। একপর্যায়ে গত ১৬ অক্টোবর বিকালে আসামী তার বাবাকে হুমকি দেয়, যদি তার স্ত্রী সন্তানদের বাড়িতে ফিরিয়ে না নিয়ে আসে, তাহলে তাকে খুন করে ফেলবে।

‎পরে ১৭ অক্টোবর সকাল ১০টায় ভিকটিম আ. মালেক মামলার বাদীর বসত ঘরের খাটের উপর বসে বাদীর স্ত্রী-সন্তানের সাথে কথা বলছিল। এসময় আসামী আব্দুল আওয়াল বাদল পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হাতে ছুরি নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে বাদীর স্ত্রী ও মেয়েকে ঘর থেকে বের করে দেয়। এরপর আসামী ছুরি দিয়ে তার পিতা আ. মালেকের বুকের বাম পাশে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

‎পরে আহত আ. মালেক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ঘটনার পর নিহতের ছোট ছেলে খোকন মিয়া বাদী হয়ে করিমগঞ্জ থানায় আসামী আব্দুল আওয়াল বাদলসহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

‎র‌্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে করিমগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *