কিশোরগঞ্জে আদালতের  নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে‎ জমি দখলের চেষ্টা, প্রতি পক্ষের হামলায় আহত -২

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি।

কিশোরগঞ্জের  মহিনন্দন ইউনিয়নের  খিরদা বাজারে  আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বেআইনিভাবে জমি দখলের চেষ্টা করে সৎভাই  আব্দুল হাই, ও আব্দুল হক গংরা, এ-সময় জমির প্রকৃত মালিক  আব্দুল জলিল  সেখানে গেলে,  প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হন তিনি ও তার ভাতিজা রাসেল, সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তুলেছেন কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল নয়াপাড়ার বাসিন্দা আঃ জলিল। পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ সৎ ভাই ও ভাতিজারা  জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করছে।  শুধু তাই নয়, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকিও দিচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।  সোমবার দুপুরে আঃ জলিল কিশোরগঞ্জ জেলা অনলাইন প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। সংবাদ  সম্মেলনে তিনি  আরও বলেন, ২০২১ সালে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আঃ জলিল কিশোরগঞ্জ আদালতে সি.আর মামলা (নং- ১৮৫/২০২১) দায়ের করেন। ৬ জুন ২০২৫ প্রতিপক্ষ আরমান (পিতা মৃত ফজর আলী) তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির লিখিত অভিযোগ করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায়। মামলা নং-০৫ রুজু করে। পরবর্তীতে আদালতে হাজির হয়ে জমির প্রকৃত মালিকানা প্রমাণ করলে আঃ জলিল জামিনে মুক্ত হন। এরপর আবারও তিনি সি.আর মামলা (নং-৮৩৫/২০২৫) দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন। তিনি আরও বলেন,
‎৯ আগস্ট  সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমি ও আমার ভাতিজা  খিরদা বাজারে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে প্রকাশ্যে আমাদের উপর হামলা চালিয়ে  গুরুতর আহতকরে।  পরে খবর পেয়ে  কিশোরগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আমাদের  কে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ  সদর  হাসপাতালে ভর্তি করেন।  ভুক্তভোগী পরিবারের আঃ জলিল সংবাদ সম্মেলনে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আমার পিতার বৈধ সম্পত্তি দখলের জন্য প্রতিপক্ষ নানাভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তারা আমাকে দেশীয় অস্র রাম দা দিয়ে মাথায় কোপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত কাটা জখম করে, তাছাড়াও বিভিন্ন ধরনের  মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে,  এমনকি প্রকাশ্যে আমাকে ও পরিবারের লোকজনকে প্রাণনাশের হুমকি  দিচ্ছে।
‎তার পরিবারের দাবি, হামলার ঘটনায় নারী ও প্রবীণ সদস্যরাও প্রতি নিয়ত আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে, জলিলের স্ত্রী চম্পা বলেন, আমার মেয়ে স্কুলে যাওয়ার পথেও  প্রতিপক্ষের ছেলে শাকিল মেয়েকে ইভটিজিং করে । সংশ্লিষ্ট জমির বিষয়টি  বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। আদালতের জারি করা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকলেও প্রতিপক্ষ বারবার তা উপেক্ষা করছে।  এর ফলে আইনের শাসন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হচ্ছে।
‎ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি প্রতিপক্ষের ছেলে পুলিশে চাকরী করায় তার প্রভাবে তারা ন্যায় বিচার হতে বঞ্চিত, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, আদালতের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে জমির প্রকৃত মালিকানা রক্ষা ও ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ঘটনাটি এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
‎ মামলা-মোকদ্দমা চললেও প্রতিপক্ষের দাপট বেড়ে গেছে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
‎এব্যাপারে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) মো. আব্দুল্লা আল মামুন বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *