কালিয়াকৈরে পুলিশের গাড়িতে আগুন, কারখানায় ভাঙচুর

এটিভি অনলাইন ডেস্ক

​গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে টানা কয়েক দিন ধরে চলা তৈরি পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মহাসড়কে বিশৃঙ্খলা, পুলিশি যানবাহন ও শিল্পকারখানায় অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসব সহিংস কর্মকাণ্ডের পেছনে আন্দোলনকারী সাধারণ শ্রমিকদের চেয়ে বহিরাগত অপরাধী চক্রের প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে বলে উঠে এসেছে। 

শিল্পাঞ্চল ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বহিরাগত দুষ্কৃতকারীদের তৎপরতা রোধে এবার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও কালিয়াকৈর পৌরসভা। 

সোমবার (২ নভেম্বর) কালিয়াকৈর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইনের স্বাক্ষরিত একটি ‘অতি জরুরি’ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

​গত কয়েক দিন ধরে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর ও মৌচাকসহ বিভিন্ন শিল্প এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ উঠেছে, আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে একদল বহিরাগত লোক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর চড়াও হয়। বহিরাগতরাই পুলিশের পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগ করে, বিভিন্ন পোশাক কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর চালায় এবং পুরো এলাকায় এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

​সহিংসতা রুখতে ও অপরাধ চক্রকে চিহ্নিত করতে উপজেলার সমস্ত বাড়ি ও ফ্ল্যাট মালিকদের উদ্দেশ্যে বিশেষ দিকনির্দেশনা দিয়েছে কালিয়াকৈর পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসন। 

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে—

​১. বাসা ও ফ্ল্যাট মালিকদের সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো বহিরাগত বা অপরাধ চক্রের সদস্য গোপনে বাসায় অবস্থান নিতে না পারে।

​২. ভাড়াটেদের নিজ পরিবারের সদস্য ছাড়া অতিরিক্ত বা কোনো অপরিচিত বহিরাগত লোক বাসায় অবস্থান করলে অবিলম্বে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ অথবা উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে।

​৩. যদি কোনো বাড়ির মালিক প্রশাসনকে বিষয়টি না জানান এবং ওই বহিরাগতদের মাধ্যমে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তবে তার পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিককেই বহন করতে হবে।

​কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে বহিরাগতরা যাতে এলাকায় প্রবেশ করে সার্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সেজন্যই এই গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের এই কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

​কালিয়াকৈর পৌরসভার প্রশাসক এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, “কালিয়াকৈর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এখানে অশান্তি মানে সারা দেশের অর্থনীতিতে অশান্তি। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরির দাবি নিয়ে আলোচনার দরজা খোলা আছে। কিন্তু শ্রমিকের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কোনো বহিরাগত, কোনো অপরাধ চক্রকে কালিয়াকৈরে ঢুকে নাশকতা করতে দেওয়া হবে না। 

বাড়িওয়ালাদের স্পষ্ট করে বলছি, আপনার বাড়িতে কে থাকছে, আপনি জানবেন। অপরিচিত বহিরাগত গোপনে অবস্থান নিলে সাথে সাথে থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে জানান। না জানিয়ে গোপন করলে, আর সেই বহিরাগত দিয়ে কোনো অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, মহাসড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটলে, তার পূর্ণ দায়ভার আপনাকেই বহন করতে হবে। শান্ত থাকুন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখুন। প্রশাসন সবার পাশে আছে। যারা ভাড়াটে বহিরাগত এনে বিশৃঙ্খলা করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *