আল-মামুন খান, স্টাফ রিপোর্টারঃ

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ডিজিটাল মাধ্যম মানুষের জীবনকে সহজ করে তুললেও এর অপব্যবহার দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে ব্যক্তিগত আক্রমণ, মানহানিকর পোস্ট, আপত্তিকর মন্তব্য ও পরিচয় ব্যবহার করে হয়রানির ঘটনা বাড়ছে। এর ফলে সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়ছেন অনেকেই।এমনই এক ঘটনার অভিযোগ তুলেছেন, হোসনে আরা পুতুল। তাঁর অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে একাধিক ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে তাঁকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এসব আইডি থেকে তাঁর বিরুদ্ধে মানহানিকর পোস্ট ও আপত্তিকর মন্তব্য করা হচ্ছে, যা তাঁর ব্যক্তিগত সম্মান ও সামাজিক মর্যাদার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।হোসনে আরা পুতুল বলেন, বেশ কিছুদিন যাবত একাধিক ফেক আইডি দিয়ে তাঁকে বিভিন্নভাবে মানহানিকর পোস্ট ও মন্তব্য করা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডে তিনি মানসিকভাবে বিব্রত এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছেন। কারা এসব ভুয়া আইডি পরিচালনা করছে, তা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে কাউকে উদ্দেশ্য করে অপপ্রচার, মানহানিকর বক্তব্য কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণ করা ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত অপরাধীর পরিচয় আড়ালে থাকায় ভুক্তভোগীরা সহজে প্রতিকার পান না।বিশেষ করে একাধিক ভুয়া আইডি ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করার অভিযোগ উঠলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। এসব অ্যাকাউন্টের পেছনে কারা রয়েছে, কী উদ্দেশ্যে এমন কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসা জরুরি।ভুক্তভোগী হোসনে আরা পুতুলের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের হয়রানি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভুয়া আইডিগুলোর প্রকৃত ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।সচেতন মহলের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও সেই স্বাধীনতার অপব্যবহার করে কারও ব্যক্তিগত সম্মানহানি, মিথ্যা প্রচারণা কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি গ্রহণযোগ্য নয়।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান: হোসনে আরা পুতুলের অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ভুয়া আইডিগুলোর প্রকৃত ব্যবহারকারী শনাক্ত করা এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণের জন্য, কাউকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন কিংবা মানসিকভাবে হয়রানি করার জন্য নয়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে নিরাপদ রাখতে হলে অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।
