আল-মামুন খান, স্টাফ রিপোর্টারঃ

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পুরোদমে চলছে আমন ধানের চারা রোপণের কাজ। বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন করে জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তাড়াইলে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৮২৩ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড ৫৪০, উফশী ৭ হাজার ২৮০ এবং স্থানীয় জাতের ধানের লক্ষ্যমাত্রা ৩ হেক্টর। ইতোমধ্যে হাইব্রিড ৫০০, উফশী ৪ হাজার ৯৫০ এবং স্থানীয় জাতের ৩ হেক্টরসহ মোট ৫ হাজার ৪৫৩ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৭০ শতাংশ।
কৃষি বিভাগ আশা করছে, চলতি মৌসুমে আমন চাষের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পাশাপাশি তা ছাড়িয়েও যেতে পারে। তবে ভাদ্র মাসে আশানুরূপ বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আমন চাষের শুরুতে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছে কৃষকদের। সময়মতো চারা রোপণ না করলে চারার বয়স বেড়ে যাওয়ায় ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে বৃষ্টির পানির অপেক্ষা না করে গভীর ও অগভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ দিয়ে জমিতে চারা রোপণ করছেন অনেক কৃষক।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা জমি প্রস্তুত, বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন ও চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মাঠে মাঠে চলছে আমন ধানের চারা রোপণের কর্মযজ্ঞ। ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে চারা রোপণের কাজ শেষ হয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।
আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে অবশিষ্ট জমিতেও চারা রোপণ শেষ করার আশা করছেন তারা।আমন মৌসুমের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় জমিতে পানি দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন কৃষকরা। প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না থাকায় অনেককে সেচের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। এতে প্রতি বিঘা জমিতে চারা রোপণের জন্য সেচ বাবদ অতিরিক্ত ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়নের কালনা গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান ও ফজলুর রহমান বলেন, “সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় ধানের চারা রোপণে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছি। এখন সেচের পানি দিয়ে ধান লাগাতে হচ্ছে। এতে খরচ বাড়ছে। এবার ফলন ও ধানের দাম ভালো পেলেই আমরা খুশি।”

তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বিকাশ রায় বলেন, “আবহাওয়া বর্তমানে অনুকূলে রয়েছে এবং দ্রুত পানি সরে যাওয়ায় আমন আবাদে অগ্রগতি ভালো। আমরা আশা করছি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে তা অতিক্রম করতে পারব।”
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের আমন আবাদে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। সময়মতো চারা রোপণ ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে কৃষকরা এবারের মৌসুমের প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
