হোসেনপুরে আঞ্চলিক সড়কে সেতুর মাঝখানে ভেঙে গেছে -ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন ৬ মাসেও মেরামতের খবর নেই

এ.কে.এম.মোহাম্মদ আলী, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি :

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার হোসেনপুর-পুলেরঘাট আঞ্চলিক সড়কের ঠাডারকান্দা বাজার এলাকায় একটি সেতুর মাঝে কংক্রিটের ঢালাই ধসে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এতে ঐ সেতুর উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ছোট ছোট যান অটো, সিএনজি ছাড়া বড় ট্রাক বা বাস চলাচল করতে না পাড়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় জনভোগান্তি চরমে পৌচেঁছে।

দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপুর্ণ অবস্থায় থাকা সেতুটি মেরামতের কোন উদ্যোগ নেয়নি কতৃপক্ষ, এতে করে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর মাঝখানের কংক্রিটের ঢালাই খসে গিয়ে বড় গতের সৃষ্টি হয়েছে সেতুর মাঝখানে ভেতরের রড মরিচায় ক্ষয়ে গিয়ে যানবাহনের চাপে সেতুর মাঝখানে ধসে গেছে । স্থানীয় লোকজন দুর্ঘটনা এড়াতে সেতুর ধসে যাওয়া গর্তে গাছের গুঁড়ি ফেলে সতর্কতামূলক ব্যাবস্থা করেছেন । এতে রাস্তা ও সেতুর চলাচলের পথ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে, ফলে সড়ক দিয়ে বড় কোন যান চলাচল করতে পারছে না। সংশ্লিষ্ট এলাকার কয়েকটি বাজারে পণ্য আনা নেয়ার ক্ষেত্রে ব‍্যাবসায়ী ও জনগন ভোগান্তী পোছাচ্ছেন।

এদিকে এলজিইডির কর্তৃপক্ষ সেতুটিকে ঝুকিপূর্ণ ঘোষনা করে সাইনবোর্ড টানিয়ে দায় সেরেছে । দীর্ঘদিন যাবৎ সড়কের এ বেহাল অবস্থায়ও কর্তৃপক্ষ মেরামত বা বিকল্প কোন ব্যাবস্থা না করায় এলাকার লোকজন কর্তৃপক্ষের অবহেলায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ কয়েক বছর পর্বে সড়কটি প্রশস্তকরণ ও সংস্কার করা হলেও ৫০ বছর পূর্বে নির্মিত পুরোনো সেতুটি নতুন করে নির্মাণ করেনি। ফলে দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ সেতুটি ভেঙ্গে পড়েছে। সড়কে চলাচলকারী রিকশা চালক রফিক মিয়া, সজীব মিয়া ও বাতেন মিয়া দ্রুত সেতুটি সংস্কার অথবা নতুন সেতু নির্মানের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী রিটন মিয়া ও ফারজুল মিয়া বলেন, সেতুটি আনুমানিক প্রায় ৫০ বছর পর্বে নির্মিত হয়েছিল ৷ প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে অগনিত যানবাহন অটোরিকশা, সিএনজি, কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাক, বাস চলাচল করে,গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের সেতুটি পাঁচ থেকে ছয় মাস যাবৎ ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে, কিন্তু কর্তৃপক্ষের কোন কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। এটি সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও গাফলতি করছে বলে এলাকাবাসী জানান।

হোসেনপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ জহিরুল ইসলাম মবিন ও সাহেদল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ ফিরোজ উদ্দিন সেতুটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানালেও কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুত কুমার বলেন সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি অতি গুরুত্ব বিবেচনায় প্রয়োজনীয় বরাদ্ধ পত্র (এস্টিমেট) তৈরী করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হলেও বরাদ্দ পাওয়া যায়নি, তবে স্থানীয় ভাবে মেরামতের চেষ্টা করছেন বলে তিনি এ প্রতিবেদককে ২৩ আগষ্ট জানিয়েছেন ৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *